নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে পোলিয়ো টিকাকরণ অভিযান ঘিরে ফের রক্তপাত। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের পোলিয়োর টিকা দেওয়ার কাজে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশকর্মীকে গুলি করে খুন করল সন্দেহভাজন জঙ্গিরা। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী মোহমন্দ জেলায়। এই ঘটনায় আরও এক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা মোটরবাইকে চেপে এসে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে টিকাকরণ কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে একটি গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন ওই পুলিশকর্মীরা। সেই সময় মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই দুই পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়। আহত তৃতীয় পুলিশকর্মীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ আধিকারিক আয়াজ খান জানিয়েছেন, হামলার পর অভিযুক্তেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
পাকিস্তানে পোলিয়ো টিকাকরণ অভিযানকে নিশানা করে হামলার ঘটনা নতুন নয়। পাক তালিবান-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠন অতীতে এই ধরনের অভিযানে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী এবং তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, পোলিয়ো টিকাকরণ কর্মসূচি আসলে শিশুদের বন্ধ্যাত্ব তৈরি করার উদ্দেশ্যে পশ্চিমি দেশগুলির ষড়যন্ত্র। যদিও এই দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। তিনি এই হামলাকে ‘অসহনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। নিহত পুলিশকর্মীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নকভি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎকে সুস্থ রাখার জন্য তাঁরা কাজ করছিলেন। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই প্রাণ দিতে হল তাঁদের।
সোমবার থেকেই পাকিস্তান জুড়ে নতুন করে পোলিয়ো টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পোলিয়ো নির্মূল করার আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসাবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান এবং প্রতিবেশী আফগানিস্তানই বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দু’টি দেশ, যেখানে বন্য পোলিয়ো ভাইরাস এখনও সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। ফলে এই দুই দেশে টিকাকরণ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বারবার জঙ্গি হামলার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা এবং শিশুদের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।




