নিউজ ডেস্ক: বিদেশে কাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের এক যুবক। পরিবারের আশা ছিল, চাকরি পেয়ে সংসারের হাল ধরবেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন যে এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁর পরিজনেরা। এখন প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে উৎকণ্ঠায়। ছেলের সঙ্গে কখন কি ঘটে যায়, এখন সেই আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এক মা। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে ফিরে পেতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে কাতর আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের যুবক জে বংশীকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ফল প্যাকিংয়ের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। বিদেশে কাজের সুযোগ পেয়ে তিনিও নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু, অভিযোগ রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরই বদলে যায় পরিস্থিতি। যে কাজের কথা বলে তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে কোনও মিল খুঁজে পাননি তিনি। বরং প্রতারণার শিকার হয়ে জড়িয়ে পড়েন রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে।
অভিযোগ, জোর করে তাঁকে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়। এরপর দেওয়া হয় সামরিক প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ শেষ হতেই তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্মুখ সমরে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন পরিবারের সদস্যেরা। বিশেষ করে ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত তাঁর মা।
ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তাই আর অপেক্ষা করতে পারছেন না তিনি। কেন্দ্রীয় সরকার ও অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্য সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, যেভাবেই হোক ছেলেকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। মায়ের কাতর আর্জি, 'দয়া করে আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনুন।' সন্তানের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আশায় প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পথ থেকে চাকরি, উচ্চ বেতনের প্রলোভন কিংবা অন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারতীয় যুবকদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণহানি ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিদেশ মন্ত্রক এবং মস্কোয় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এর আগে রুশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারতীয়দের মুক্তি ও দেশে ফেরানোয় উদ্যোগী হয়েছে। এবার জে বংশীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে তাঁর পরিবার।




