নিউজ ডেস্ক: দশ বছর আগে প্রথম বার ভারতে এসেছিলেন তিনি। তার পর থেকে এই দেশেই রয়েছেন। এক দশকের ব্যবধানে চোখের সামনে বদলে যেতে দেখেছেন ভারতের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। প্রযুক্তি থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা, নগদ টাকার ব্যবহার থেকে ডিজিটাল লেনদেন—পরিবর্তনের সেই ছবি তুলে ধরেই সমাজমাধ্যমে এখন চর্চায় পোল্যান্ডের এক মহিলা। তাঁর নাম ডমিনিকা পাটালাস-কালরা। সম্প্রতি একটি ভিডিয়োয় গত দশ বছরে ভারতের আমূল পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। আর সেই ভিডিয়োই নজর কেড়েছে নেটাগরিকদের।
ডমিনিকার কথায়, দশ বছর আগে যখন প্রথম ভারতে এসেছিলেন, তখনকার সঙ্গে বর্তমান ভারতের বিস্তর ফারাক। বিশেষ করে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন তাঁকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে। তাঁর মতে, গত এক দশকে ভারত এমন কিছু ক্ষেত্রে এগিয়েছে, যা আগে কল্পনা করাও কঠিন ছিল। এই পরিবর্তনের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ডিজিটাল লেনদেন। এক সময় ভারতে কেনাকাটা করতে গেলে নগদ টাকা সঙ্গে রাখা ছিল কার্যত বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখন ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা।
https://www.instagram.com/reel/DfCgoqFtOxA/?utm_source=ig_web_copy_link&mdxt=NTc4MTIwNjQ2YQ==
বড় শপিং মল থেকে রাস্তার ধারের ছোট চায়ের দোকান, এমনকি ফুটপাতের বিক্রেতার কাছেও রয়েছে কিউআর কোড। মোবাইল ফোনে কোড স্ক্যান করেই কয়েক সেকেন্ডে মিটিয়ে দেওয়া যাচ্ছে দাম। নগদ টাকার উপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের এই বিস্তারই ডমিনিকার চোখে ভারতের অন্যতম বড় পরিবর্তন। বিমান পরিষেবাতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত কয়েক বছরে দেশে নতুন বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে, পুরনো বিমানবন্দরগুলির পরিকাঠামোও আধুনিক হয়েছে। বেড়েছে বিমান যোগাযোগের সুযোগ।
ডমিনিকার মতে, এখন ভারত থেকে পোল্যান্ডে যাতায়াতও আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতায়, সরাসরি বিমানে প্রায় সাত ঘণ্টায় পোল্যান্ডে পৌঁছনো সম্ভব। সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বদলের কথা তুলে ধরেছেন এই পোলিশ মহিলা। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে, জাতীয় সড়ক, উড়ালপুল এবং মেট্রো রেলের বিস্তার দেশের যাতায়াত ব্যবস্থাকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে। আগে যে পথ পাড়ি দিতে দীর্ঘ সময় লাগত, উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে এখন সেই যাত্রা অনেক দ্রুত হচ্ছে। বিভিন্ন শহরে মেট্রো পরিষেবার সম্প্রসারণও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে।
শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন নজরে পড়েছে ডমিনিকার। এখন মোবাইল ফোনে কয়েকটি ক্লিক করলেই বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে খাবার, মুদিখানার সামগ্রী কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস। অনলাইন পরিষেবা এবং দ্রুত ডেলিভারির এই সংস্কৃতি ভারতের শহুরে জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ভারতীয় রেলের পরিবর্তনও তাঁর নজর এড়ায়নি। আধুনিক ট্রেন, উন্নত স্টেশন এবং ডিজিটাল পরিষেবার প্রসারের ফলে রেলযাত্রার অভিজ্ঞতা অনেকটাই বদলেছে বলে মনে করেন তিনি। যাত্রী পরিষেবা থেকে শুরু করে পরিকাঠামো—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই গত এক দশকে উন্নতি হয়েছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ।
ডমিনিকার এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকেই তাঁর পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক দশক আগে যে পরিষেবাগুলি ছিল সীমিত, আজ সেগুলিই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে কয়েক জনের মতে, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোয় উন্নতি হলেও দেশের বহু ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা রয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে, বিদেশিনির চোখে গত দশ বছরে ভারতের বদলে যাওয়া ছবিই উঠে এসেছে ডমিনিকার ভিডিয়োয়। ডিজিটাল লেনদেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অনলাইন পরিষেবা—দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তন তাঁকে মুগ্ধ করেছে। আর সেই অভিজ্ঞতাই এখন নেটদুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার বিষয়।




