উত্তর দিনাজপুর, নিউজ ডেস্ক: দাড়িভিট শহীদদের স্মরণে ২০ সেপ্টেম্বর 'বাংলা ভাষা দিবস' পালনের ডাক এবিভিপির, রাজ্যজুড়ে জোরদার আন্দোলনের প্রস্তুতি। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের দাড়িভিট বিদ্যালয়ে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রাণ হারানো দুই যুবকের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে 'বাংলা ভাষা দিবস' পালনের ডাক দিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। একই সঙ্গে দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের 'বাংলা ভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে সর্বাত্মক দরবার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই ছাত্র সংগঠনটি।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। ইসলামপুরের দাড়িভিট উচ্চবিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় বাংলা শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ না করে উর্দু ও সংস্কৃত বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। সেই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর পুলিশের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে, যার ফলস্বরূপ গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মন নামের দুই প্রাক্তন ছাত্র। শিক্ষাঙ্গনে মাতৃভাষার দাবিতে রক্ত ঝরার এই ঘটনা গোটা রাজ্যজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
সেই রক্তাক্ত ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে মর্যাদা জানাতে এবিভিপি এবার বৃহত্তর আন্দোলনে নামছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে,২০ সেপ্টেম্বর দিনটি থেকে শুরু করে পরবর্তী এক সপ্তাহ ধরে গোটা রাজ্যের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ চত্বরে ধারাবাহিকভাবে দাড়িভিট কাণ্ডের প্রেক্ষাপট নিয়ে গণ কনভেনশন, আলোচনা সভা এবং গেট মিটিং আয়োজন করা হবে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে দাড়িভিটের ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।
পাশাপাশি, আন্দোলনের মূল দিন অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানী কলকাতায় বড়সড় প্রতিবাদী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে পরিষদ। কলকাতার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার দুই প্রধান কেন্দ্র কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া এবং নন্দন চত্বরে বিশেষ প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।এবিভিপির দাবি, রাজ্য প্রশাসনকে অবিলম্বে দাড়িভিটের নিহত ছাত্রদের শহীদের মর্যাদা দিতে হবে এবং ২০ সেপ্টেম্বরকে সরকারিভাবে পশ্চিমবঙ্গের 'বাংলা ভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।