নিউজ ডেস্ক: প্রতিদিনের নোংরা-আবর্জনা, জমা জল আর যানজটের চেনা ভোগান্তি থেকে এবার স্থায়ী মুক্তি পেতে চলেছেন হাওড়া স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড চত্বরের নিত্যযাত্রীরা। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই জংশনে আসা লাখ লাখ মানুষের সুবিধার্থে এলাকাটির পরিকাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকাকে আন্তর্জাতিক মানের যাত্রী-বান্ধব বাণিজ্যিক হাবে রূপ দিতে যৌথভাবে ময়দানে নেমেছে পুর প্রশাসন, রেলওয়ে ও কেএমডিএ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমান অস্বাস্থ্যকর বাসস্ট্যান্ড এলাকার খোলস বদলে সেখানে মাথা তুলে দাঁড়াবে একটি আধুনিক ১২ থেকে ১৩ তলার আকাশছোঁয়া ভবন। নতুন এই বহুতলের একেবারে নিচের অংশে থাকবে সুসজ্জিত আধুনিক বাস টার্মিনাল। তার ঠিক ওপরের তলে রাখা হচ্ছে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড এবং ব্যক্তিগত চার চাকা ও দু'চাকার বিশাল পার্কিং ব্যবস্থা। নিত্যযাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভবনের মধ্যবর্তী তলগুলিতে গড়ে তোলা হবে শপিং মল ও মুখরোচক খাবারের ফুড কোর্ট। আর এই বহুতলের শীর্ষতলে বিনোদনের জন্য থাকছে ঝাঁ-চকচকে মাল্টিপ্লেক্স।
শুধু বহুতল নির্মাণই নয়, পরিবহণের বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে যাত্রী পারাপার সহজ করতে জোর দেওয়া হচ্ছে পরিকাঠামোগত সংযোগে। বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীরা যাতে রোদ-বৃষ্টি বা যানজট এড়িয়ে নির্বিঘ্নে রেল স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন, তার জন্য নির্মিত হবে একটি সুদীর্ঘ স্কাইওয়াক। একই সঙ্গে হাওড়া স্টেশন থেকে হুগলি নদীর ফেরিঘাটে যাওয়ার বর্তমান আন্ডারপাস বা ভূগর্ভস্থ পথটিরও সম্পূর্ণ সংস্কার করে আধুনিক রূপ দেওয়া হবে।
প্রশাসনের আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রেল, বাস, ফেরিঘাট এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর মধ্যে সংযোগ ব্যবস্থা অভাবনীয় গতি পাবে, যার সরাসরি সুফল পাবেন সাধারণ যাত্রী। এ প্রসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায় বলেন, বিভিন্ন দফতরের কাজের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ।