নিউজ ডেস্ক: ফের কলকাতায় আসছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ৮ অক্টোবর শহরে পা রাখার কথা তাঁর। এবার কলকাতায় তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন হল ‘শিকল ভাঙার গল্প’। মহাজাতি সদনে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এর আগে রবীন্দ্র সদনে ‘ফেরা’ নামে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তসলিমা নাসরিন। সেই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে কলকাতায় আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। তসলিমা যখন ইচ্ছা কলকাতায় আসতে পারেন এবং তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকার নেবে—এমন বার্তাও দেওয়া হয়েছিল সেই অনুষ্ঠানে।
এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব, ‘শিকল ভাঙার গল্প’ তৈরি হচ্ছে তসলিমা নাসরিনের নির্দেশনায়। অনুষ্ঠানের কোরিওগ্রাফির দায়িত্বে রয়েছেন খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পী মৈত্রী পাহাড়ি। সাহিত্য, নৃত্য এবং মঞ্চ উপস্থাপনার সমন্বয়ে এই বিশেষ অনুষ্ঠান দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত শহরেই থাকার কথা তসলিমা নাসরিনের। ফলে কয়েকদিন কলকাতায় তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মহাজাতি সদনের মঞ্চে ‘শিকল ভাঙার গল্প’ কীভাবে পরিবেশিত হয়, এখন সেদিকেই নজর।
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ-তে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তসলিমা নাসরিন। কিন্তু নিজের দেশে থাকার সৌভাগ্য হয়নি। তার লেখা বই 'লজ্জা' নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে। আসে প্রাণনাশের হুমকিও। বই-বিতর্কের পর , ১৯৯৪ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
তারপর দীর্ঘ দুই দশক কেটে গিয়েছে। পরে ভারতে বেশ অনেকটা সময় কাটিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেটাও দীর্ঘ স্থায়ী হয়নি। বাম আমলে তাঁর লেখা ‘দ্বিখণ্ডিত’ ঘিরে শুরু হয় অশান্তি। সেই ঘটনায় ২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়াতে বাধ্য হন তসলিমা।
এরপর তৃণমূলের শাসনেও তসলিমার ফেরা সম্ভব হয়নি । মাঝে কেটে গিয়েছে ১৯ বছর। তখন দিল্লি আপন হয়ে গিয়েছে। তবে রাজ্যে পালাবদল হতেই ফের শহরে পা রাখেন লেখিকা। প্রায় ২ দশক পর ৩১ জুলাই কলকাতায় আসেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শহরে দিন পাঁচেক কাটিয়ে ফিরে যান।
কিন্ত, শহর ছাড়ার আগে জানিয়েছিলেন, আবার অক্টোবরে তিনি কলকাতায় আসবেন। তার পরে আবার আসবেন বইমেলায়। লেখিকা বলেন, ‘অক্টোবর মাসে আসব। আর বইমেলায় তো আসছিই।’ সেই কথা মতো পুজোর আগে আবার কলকাতায় পা রাখতে চলেছেন তসলিমা নাসরিন।