নিউজ ডেস্ক: বর্ষা এলেই বিহারের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ জীবনে এক চেনা আতঙ্ক ফিরে আসে। কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই নদীর জল ঢুকে পড়ে উঠোনে, চোখের পলকে তলিয়ে যায় বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি আর মাটির ঘরবাড়ি। ছাপড়া ও সংলগ্ন চরাঞ্চলে এ চিত্র নতুন নয়, দশকের পর দশক ধরে এটাই সেখানকার অলিখিত ভবিতব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। জল বাড়তেই যৎসামান্য সম্বল কাঁধে নিয়ে পরিবার আর গবাদি পশু সমেত বাঁধের উঁচু ঢালে কিংবা সড়কের ধারে ত্রিপল খাটিয়ে রাত কাটাচ্ছেন বানভাসি মানুষ।
বাসিন্দাদের প্রশ্ন,বন্যা থেকে বিহারকে চিরতরে মুক্তি দিতে সরকার আসলে কী করছে?
সম্প্রতি ছাপড়া জেলা থেকে সামনে আসা চিত্রগুলি স্পষ্ট করে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ কীভাবে ভাঙছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, ছোটবেলা থেকে তাঁরা দেখে আসছেন জল বাড়ছে, ঘর ভাঙছে, আর প্রশাসন কয়েক প্যাকেট শুকনো খাবার বিলিয়ে নিজেদের দায়িত্ব সেরে ফেলছে। জল নামলেই সব নীরব।
কোনো বছরই সাধারণ মানুষ জানতে পারে না স্থায়ী কোনো বাঁধ সংস্কার বা নদীশাসনের কাজ আদৌ কতটা এগোল। বাজেটে প্রতি বছর বন্যা নিয়ন্ত্রণের খাতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের বয়ান থাকে কিন্তু বাস্তবে নদীগর্ভ ক্রমেই পলি জমে অগভীর হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দুকূল ছাপিয়ে জল ভাসিয়ে নিচ্ছে সাজানো সংসার। বর্ষার ঠিক আগে মাটির বাঁধে জোড়াতালি দেওয়ার নামে যে অর্থ খরচ হয়, প্রথম ঢলেই তা ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায়।
বিহারের ক্ষেত্রে বন্যা এখন আর কোনো আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক বার্ষিক পুনরাবৃত্তি। আকাশপথে পরিদর্শনের পর ত্রাণ বিলি করাটাই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে উপায়। অথচ বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নদীর ড্রেজিং, আধুনিক স্লুইস গেট তৈরি কিংবা টেকসই নদীশাসনের মতো দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমাধানের কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা আজও সাধারণ মানুষের সামনে আসেনি।
চিঁড়ে-গুড়ের মতো সাময়িক দানে মানুষের এই স্থায়ী বাস্তুহারা হওয়ার বেদনা মোছা সম্ভব নয়। নথিপত্রের বাইরে এসে স্থায়ী ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে, প্রতি বছরই ছাপড়ার মতো জনপদের ভাগ্য এভাবে ঘোলা জলের অতলে তলিয়ে যাবে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক মহিলা হাতে লাঠি নিয়ে জল ঠেলে তার শিশুকে পিঠে করে নিয়ে যাচ্ছেন। এটি একটি ছবি কিন্ত এরকম বহু ছবি উঠে আসছে যা তুলে ধরছে বন্যার করুন ছবি।