পুণে: কেতন অগ্রবাল হত্যাকাণ্ডে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। শনিবার বড়গাঁও মাভাল আদালতে পুলিশ ৫,০৫৩ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে। চার্জশিটে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং ঘটনার আগে ও পরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গ থেকে কেতনকে ঠেলে ফেলে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীর বিরুদ্ধে। দু’জনই বর্তমানে জেলবন্দি। এই মামলায় রীতেশ হাঙ্গে নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রথমে সিয়া ও চেতন অন্য একজনকে দিয়ে কেতনকে খুন করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কেতনকে শারীরিকভাবে অক্ষম করে দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। মহারাষ্ট্রের বাইরে কয়েকজনের সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। তবে ধরা পড়ার আশঙ্কায় পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। এরপর নিজেরাই কেতনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তে প্রায় ১০০ জনের সাক্ষ্য, তিন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান, মোবাইলের তথ্য, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, কল ডিটেল রেকর্ড, ছবি এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
লোহাগড় দুর্গ কেন?
কেতনকে কোথায় হত্যা করা হবে, তা নিয়েও বেশ কিছুদিন ধরে জায়গা খোঁজা হয়েছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে। লোনাভলার আশপাশের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখেন সিয়া ও চেতন। পরে লোহাগড় দুর্গকে বেছে নেওয়া হয়।
চার্জশিট অনুযায়ী, অভিযুক্তরা এমন একটি জায়গা খুঁজছিলেন যেখানে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর সুযোগ থাকবে। শেষ পর্যন্ত লোহাগড় দুর্গকেই চূড়ান্ত জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের আরও দাবি, কেতনকে হত্যার আগে বিভিন্ন ক্রাইম সিরিজ এবং পডকাস্ট দেখেছিলেন অভিযুক্তরা। মেঘালয়ের রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের মতো আলোচিত ঘটনাগুলি নিয়েও তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।
ভুয়ো ‘মাহি’ অ্যাকাউন্টের ফাঁদ
কেতনকে দুর্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয় একটি ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। পুলিশের দাবি, ‘মাহি’ নামে ওই অ্যাকাউন্টটি তৈরি করে সিয়া কেতনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। অন্য এক তরুণীর ছবি ব্যবহার করে কেতনের সঙ্গে কথোপকথন চালানো হয়।
১৮ জুন ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই কেতনকে লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করা হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। এমনভাবে মেসেজ করা হয়েছিল যাতে কেতন মনে করেন, সেখানে গেলে তাঁর জন্য একটি বিশেষ চমক অপেক্ষা করছে। কেতন খুনের পর ওই ভুয়ো অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হয় বলেও চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ৪ জুন কেতনকে লোহাগড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। কেতন যেতে না চাইলে বালি ভ্রমণ বাতিল করানোর জন্য তাঁর পাসপোর্ট চুরি ও নষ্ট করার অভিযোগও উঠেছে সিয়ার বিরুদ্ধে। ১৪ জুন তাঁকে লোহাগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেদিনও তাঁকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে।
পুরো ঘটনায় পুলিশের হাতে থাকা ডিজিটাল প্রমাণ, সাক্ষীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেই আদালতে ৫,০৫৩ পাতার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এখন এই মামলায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে।