নিউজ ডেস্ক: আকাশজুড়ে আলোর খেলা, নদীর ঘাটে হাজার হাজার প্রদীপের ঝলকানি, আর চারপাশে উৎসবের আবহ। ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এক অন্যরকম সাজে সেজে উঠতে চলেছে রামনগরী। শুধু আলোই শহর সাজানোই নয়, দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দিক। এবারের উৎসবে এমন কিছু বিশেষ আয়োজন থাকছে, যা আগের থেকে কৌতুহল বাড়িয়েছে দেশ-বিদেশের মানুষের মধ্যে।
উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় ২০২৬ সালের দশম দীপোৎসব উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে একাধিক বড়সড় উদ্যোগ। সরযূ নদীর তীর এবং রাম কি পইডিতে প্রায় ৩৩ লক্ষ মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে নতুন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে প্রশাসন। ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই উৎসবকে স্মরণীয় করে তুলতে সাজানো হয়েছে বিস্তৃত পরিকল্পনা।
এবারের দীপোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ২১০০ টি ড্রোনের বর্ণাঢ্য লাইট শো। আকাশে একসঙ্গে উড়ে, এই ড্রোনগুলি রামায়ণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও দৃশ্য ফুটিয়ে তুলবে। এর পাশাপাশি থাকবে লেজার শো এবং থ্রিডি হলোগ্রাম প্রদর্শনী। ফলে, রাতের আকাশে তৈরি হবে এক অভিনব দৃশ্যপট।
প্রযুক্তির চমক নয়, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেও থাকছে বিশেষ আয়োজন। নদীর তীরে ১১০০-রও বেশি সাধু, সন্ন্যাসী ও পুরোহিতের উপস্থিতিতে মহা আরতীর পরিকল্পনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, লক্ষ লক্ষ প্রদীপ সাজানো বা জ্বালানোর কাজে যুক্ত থাকবেন প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাও এই কাজে অংশ নেবেন।
উৎসবের সাংস্কৃতিক দিকটিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা লোকশিল্পীরা নাচ, গান ও নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পাশাপাশি আয়োজন করা হবে বর্ণাঢ্য রামলীলা। রামায়ণের কাহিনী ও রামচন্দ্রের জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। ফলে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভারতীয় লোকসংস্কৃতিরও এক জমকালো প্রদর্শনী দেখা যাবে।
দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অযোধ্যার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসানো হচ্ছে বড় এলইডি স্ক্রিন। এর মাধ্যমে মূল উৎসবস্থলে পৌঁছতে না পারলেও দূর থেকে অনুষ্ঠানের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক পরিষেবার ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। উৎসব প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখতে প্রায়ই ৭৯২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ৫৫ টি বর্জ্যব্যবস্থাপনার গাড়ি মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের জন্য মোবাইল শৌচালয় এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে এবারের দীপোৎসবকে ধর্মীয় ঐতিহ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের এক বড় মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে উত্তর প্রদেশ সরকার। ৩৩ লক্ষ প্রদীপের আলোয় সরযূ নদীর তীর কতটা বর্ণময় হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা।




