নদিয়া: রাজ্যের প্রাচীন মন্দির ও মঠগুলির সংস্কারে এবার বড়সড় উদ্যোগ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী দু’বছরে এই কাজের জন্য খরচ করা হবে ১ হাজার কোটি টাকা। শুক্রবার নদিয়ার আরংঘাটায় কালীপুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের লক্ষ্য, রাজ্যের ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানগুলিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা এবং পর্যটনের মানচিত্রে সেগুলিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা।
এদিন আরংঘাটার শতদল ক্লাবের কালীপুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও পর্যটনকেন্দ্র নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে নবদ্বীপ, শান্তিপুর ও কোচবিহারকেও নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২২ তারিখ রাস পূর্ণিমার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নবদ্বীপে যাবেন তিনি। সেখানে শ্রীচৈতন্যদেবের ধামে ধর্মীয় কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন। পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে তুলে ধরার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কী এই তীর্থক্ষেত্র সার্কিট?
এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রাচীন মঠ ও মন্দিরগুলির সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পত্তি এই প্রকল্পের আওতায় পড়বে না। দেবোত্তর সম্পত্তি, ট্রাস্টের অধীনে থাকা এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত প্রাচীন মন্দিরগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, অযোধ্যা, কাশী এবং উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলার ধর্মীয় স্থানগুলিকেও নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিগত সরকারকেও নিশানা
এদিনের মঞ্চ থেকে পূর্ববর্তী সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নদিয়ার হাঁসখালির প্রসঙ্গ তুলে নারী নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি দুর্গাপুজোর বিসর্জন ঘিরে অতীতে বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, একসময় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় কাঁসর-ঘণ্টা বাজাতেও বাধা দেওয়া হত।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, আগে রাজ্যে প্রায় ১৩ হাজার দুর্গাপুজো হত। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে। এ বছর কোথাও পুজো করতে বাধা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সব মিলিয়ে একদিকে প্রাচীন মন্দির-মঠের সংস্কারে হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা, অন্যদিকে ধর্মীয় পর্যটনকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার উদ্যোগ এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখেই এগোতে চাইছে রাজ্য সরকার। এবার দেখার, ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ বাস্তবে বাংলার ধর্মীয় পর্যটনের ছবিটা কতটা বদলাতে পারে।




