নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের শিল্প-খরা কাটিয়ে বাংলায় নতুন করে শিল্পের পরিবেশ তৈরি করতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। আর সেই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল সিঙ্গুর। বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার দিন সিঙ্গুরে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সিঙ্গুরকে নিয়ে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই বিষয়ে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গেও কথাবার্তা এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও ঠিক কী ধরনের শিল্প বা কারখানা তৈরি হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী। তবে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনার খবর সামনে আসতেই সিঙ্গুরে ফের গাড়ি শিল্প ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে নতুন করে আশার আলো দেখছেন হুগলির সিঙ্গুরের মানুষ। কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'বাংলায় আর কোনও গুন্ডামি চলবে না। আমাদের সরকারের প্রথম এবং প্রধান স্লোগান- 'ভয় আউট, ভরসা ইন'।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরির উদ্যোগ ঘিরে শুরু হয়েছিল জমি আন্দোলন। ২০০৮ সালে জমি আন্দোলনের জেরে সিঙ্গুর থেকে প্রকল্প সরিয়ে নেয় টাটা গোষ্ঠী। পরবর্তীতে জমি ফেরত দেওয়া হলেও সেখানে বড় কোনও শিল্প গড়ে ওঠেনি। এদিন নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার পাশাপাশি জমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলে রাজ্য সরকার। জোর করে জমি অধিগ্রহণের বদলে জমির মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি বাজারমূল্যে জমি কেনার নীতিতে এগোতে চাইছে সরকার। পাশাপাশি ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি, জমি একত্রিত করে শিল্পের উপযোগী করে তোলা এবং অব্যবহৃত শিল্পের জমি কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাজ্যের বর্তমান বেকারত্ব ও পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, 'বর্তমানে রাজ্যে ২ কোটিরও বেশি শিক্ষিত বেকার রয়েছেন। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ শ্রমিক কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা নির্বাচনী 'সংকল্প পত্র'-এ দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'না খাব, না খেতে দেব' নীতিতেই আমরা বিশ্বাসী।'




