নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় নিহত কিশোরীর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল ১০ লক্ষ টাকার সরকারি আর্থিক সাহায্য। বুধবার পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। উপস্থিত ছিলেন বনগাঁর মহকুমাশাসক-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা। তবে আর্থিক সাহায্য পেলেও মেয়েকে হারানোর শোক যে কোনও অর্থেই পূরণ হওয়ার নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন নিহত ছাত্রীর বাবা-মা।
চেক তুলে দেওয়ার পর শান্তনু ঠাকুর জানান, এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই সরকারের তরফে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ দিন মন্ত্রীর কাছে আরও একটি আবেদন জানান নিহত ছাত্রীর মা। মেয়েকে হারানোর পর সংসারের আর্থিক পরিস্থিতির কথা ভেবে ছেলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আর্জি জানান তিনি। শান্তনু ঠাকুর বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্য দিকে, চেক হাতে পেয়েও মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকুতিই প্রকাশ পেয়েছে নিহত ছাত্রীর বাবার কথায়। তাঁর বক্তব্য, ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে কি মেয়েকে ফিরিয়ে পাওয়া সম্ভব? মেয়েকে আর ফিরিয়ে দিতে পারবেন না কেউ। তাই মন্ত্রীর কাছে তাঁর আর কোনও দাবি নেই। নিহত ছাত্রীর মাও একই আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, মেয়ে যখন আর নেই, তখন অন্য কোনও দাবি-দাওয়ার অর্থ হয় না। শুধু ছেলের একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ অক্টোবর গাইঘাটা থানা এলাকার ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোরী বাড়ির কাছের একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি ফোন আসার পর অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায় সে। তার পর আর বাড়ি ফেরেনি। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর পরের দিন সকালে উদ্ধার হয় কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে তাকে।
ঘটনায় পরিবারের আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং গুলি চালান। এক পুলিশকর্মীও আহত হন বলে জানায় পুলিশ। পাল্টা গুলিতে প্রহ্লাদের মৃত্যু হয়। পুলিশের বক্তব্য, আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালাতে হয়েছিল। ওই ঘটনার তদন্ত ও পুলিশের বয়ানের বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হয়, সে দিকেও নজর রয়েছে।




