নিউজ ডেস্ক: ভাড়া বাড়ির চার দেওয়ালের আড়ালে চলত ফটোশপের কেরামতি, আর সেখানেই ছাপা হচ্ছিল বান্ডিল বান্ডিল জাল টাকা। অন্ধকারের এই জাল কারবারের ওপর বড়সড় আঘাত হানল তেলঙ্গানা পুলিশ।
হায়দ্রাবাদে যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করল ফিউচার সিটি পুলিশ কমিশনারেট এবং শাদনগর স্পেশাল অপারেশন টিম। ঘটনায় চক্রের চার পান্ডাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ফেরার আরও তিন অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে খবর, চক্রটি মূলত ৫০০ টাকার জাল নোট বাজারে ছড়ানোর ছক কষেছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, হায়দ্রাবাদের কুন্তলুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে এই জালিয়াতির মূল কারখানাটি তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে কম্পিউটারে ফটোশপ সফটওয়্যার এবং আধুনিক প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে তৈরি হচ্ছিল ৫০০ টাকার নকল নোট। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে বাড়ির ভেতরে কোটি কোটি টাকার বেআইনি কারবার চলছে।
https://x.com/Hyderabad_Mail/status/2117614303222415430?a=p5NBohGD9kePeFZmNyc&s=20
অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেখান থেকে বান্ডিল বান্ডিল ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, টেবিলের ওপর স্তূপাকারে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ৫০০ টাকার জালনোটের বিপুল বান্ডিল, আর পুলিশ আধিকারিকরা পুরো বিষয়টি প্রদর্শন করছেন।
তবে এই চক্রের দৌরাত্ম্য কেবল জাল নোট ছাপার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ভুয়ো পুলিশ পরিচয়পত্র, নকল পিস্তল এবং একাধিক ওয়াকি-টকি। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য অভিযুক্তরা নিজেদের আসল পুলিশ অফিসার বলে পরিচয় দিত। সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাতে এবং আসল টাকা হাতিয়ে নিতে তারা পুলিশের ছদ্মবেশে তোলাবাজি করত। ভুয়ো পরিচয়পত্র ও ওয়াকি-টকির জোরে তারা সাধারণ মানুষের মনে ত্রাস সৃষ্টি করে মোটা অঙ্কের তোলা আদায় করত।
অভিযানে হাতেনাতে চারজনকে পাকড়াও করা গেলেও চক্রের আরও তিন সদস্য এখনও নিখোঁজ। পলাতকদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি জারি রেখেছে বিশেষ দল। এই বিপুল পরিমাণ জাল নোট ইতিপূর্বে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কি না এবং আন্তঃরাজ্য কোনও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে এদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।




