নয়াদিল্লি: সকাল তখন প্রায় ১০টা। আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল তিনতলা নির্মীয়মাণ বাড়ি। মুহূর্তে ইট, বালি, সিমেন্টের ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেল গোটা এলাকা। তার নীচে চাপা পড়ে গেলেন বেশ কয়েকজন। বৃহস্পতিবার সকালে পুরনো দিল্লির চাওড়ি বাজার এলাকার এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত এক জন। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না উদ্ধারকারীরা।
দিল্লির চাওড়ি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে গলি সিতারায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ দমকল বিভাগের কাছে বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর পৌঁছয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দমকলের অন্তত ছ’টি ইঞ্জিন। সঙ্গে পাঠানো হয় জলবাহী গাড়ি এবং উদ্ধারকারী দল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকল বিভাগের পদস্থ আধিকারিকরাও। তাঁদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
https://x.com/ians_india/status/2118227854936920160?a=GYi9OJLzv_xcNdJeS00&s=20
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই তিনতলা বাড়িটি ভেঙে পড়ে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। তবে ঠিক কত জন ওই সময় বাড়ির ভিতরে ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত এক জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। দুর্ঘটনার কারণও এখনও স্পষ্ট নয়। নির্মাণকাজ চলাকালীন কোনও কাঠামোগত ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে দিল্লিতে একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। গত অক্টোবরে সীমাপুরিতে চারতলা একটি বাড়ি ভেঙে তিন জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন আট জন। তার আগে সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ দিল্লির সত্যনিকেতনে একটি বাড়ি ভেঙে সাত জনের মৃত্যু হয়। বারবার এই ধরনের দুর্ঘটনায় রাজধানীর পুরনো ও নির্মীয়মাণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা এবং নির্মাণবিধি মেনে কাজ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।




