স্পোর্টস ডেস্ক: বাবার মতোই ব্যাট হাতে আগ্রাসন। প্রতিপক্ষের বোলারদের উপর শুরু থেকেই চড়াও হওয়ার মেজাজ। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচেই যেন বাবার ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন আর্যবীর শেহওয়াগ। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করলেন অধিনায়ক লক্ষ রাইচন্দানি। দুই ওপেনারের দাপটে নেপালকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে প্রতিযোগিতার অভিযান শুরু করল ভারত। শুক্রবার ওমানের মাসকটে গ্রুপ এ-র ম্যাচে নেপালকে ১০ উইকেটে হারাল ভারতীয় দল। প্রথমে বল হাতে প্রতিপক্ষকে ১২৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে কোনও উইকেট না হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক লক্ষ। সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে বেশি সময় নেননি বোলাররা। শুরু থেকেই নেপালের ব্যাটিংয়ে ধস নামান ইশান সুদ। তাঁর সুইংয়ের সামনে সমস্যায় পড়েন নেপালের ব্যাটাররা। প্রথম ওভারেই মেডেন দিয়ে শুরু করেন তিনি। এরপর প্রাশিদ্ধ জয়শিকে ১ রানে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন। সূর্যাংশু কৈরালাকে ৫ রানে সাজঘরে ফেরান তিনি। তৃতীয় শিকার নিশাল ছেত্রী। ফলে মাত্র ২৭ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে নেপাল। ১০ ওভারের শেষে তাদের রান ছিল ৩ উইকেটে ৩০।
এরপর নিরজ কুমার যাদব ও দর্শ সোনার কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। নিরজ করেন ২০ রান। আশিস লুহারের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। দর্শের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন আশিস। তাঁদের ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন যশবীর গৌড়। শেষ পর্যন্ত নেপালের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন দর্শ। তবে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না। ইশান সুদ ১০ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। অরুণ রাজপুতও তিনটি উইকেট তুলে নেন। যশবীর গৌড়ের শিকার দুটি। মনল চৌহান ও কাব্য পটেল একটি করে উইকেট পান। ৪২.৩ ওভারে ১২৮ রানেই শেষ হয়ে যায় নেপালের ইনিংস।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে রান না পেলেও দ্রুত ছন্দে ফেরে ভারত। লক্ষের ব্যাট থেকে আসে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট। অন্যদিকে শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও পরে হাত খুলে খেলতে শুরু করেন আর্যবীর। সুশীল রাওয়ালের এক ওভারে পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে নিজের আগ্রাসী মেজাজ বুঝিয়ে দেন তিনি। এরপর আর তাঁকে থামানো যায়নি। অভয় যাদবের বলে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ৩৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন আর্যবীর। শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৭০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মারেন ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা।
অন্য প্রান্তে অধিনায়ক লক্ষও ৬৩ বলে অপরাজিত ৫৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি। দুই ওপেনারের শতরানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই মাত্র ১৯.১ ওভারে ১২৯ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
এই জয়ের ফলে এশিয়া কাপের শুরুটা দুর্দান্ত হল ভারতের। তবে আসল পরীক্ষা রবিবার। পরের ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে লক্ষের দল। সেই ম্যাচে বাড়তি নজর থাকবে আর্যবীর শেহওয়াগ ও অন্বয় দ্রাবিড়ের দিকে। রাহুল দ্রাবিড়ের পুত্র অন্বয়ও রয়েছেন ভারতীয় দলে। দুই কিংবদন্তির উত্তরসূরিরা এ বার মাঠে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।




