নিউজ ডেস্ক: রেস্তরাঁয় ঢুকে ভাবলেন, খুব বেশি খরচ করবেন না। কিন্তু খাবার শেষ করে বিল হাতে আসতেই চোখ কপালে! পরিকল্পনার তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, রেস্তরাঁয় গিয়ে আমরা অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার অর্ডার করি কেন? এর পিছনে রয়েছে Restaurant Psychology বা রেস্তরাঁর মনস্তত্ত্ব। রেস্তরাঁর মেনু কার্ড তৈরির সময় বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সবচেয়ে লাভজনক খাবারগুলি এমন জায়গায় রাখা হয়, যেখানে ক্রেতাদের চোখ সহজে পড়ে। আকর্ষণীয় ছবি, খাবারের সুন্দর বর্ণনা এবং বিশেষ নামও ক্রেতাকে অর্ডার করতে উৎসাহিত করে। দামের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা কৌশল। অনেক রেস্তরাঁ মেনুতে ₹৫০০-এর পরিবর্তে ₹৪৯৯ লিখে রাখে। এতে অনেকের কাছে দামটি তুলনামূলক কম বলে মনে হতে পারে। আবার কিছু রেস্তরাঁ মেনুতে একটি অত্যন্ত দামি খাবার রাখে। তার পাশে থাকা মাঝারি দামের খাবারটি তখন তুলনায় সস্তা বলে মনে হয়। একে বলা হয় Price Anchoring।
শুধু মেনু নয়, রেস্তরাঁর আলোও গুরুত্বপূর্ণ। নরম আলো এবং আরামদায়ক পরিবেশে মানুষ অনেক সময় বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করেন। ফলে আরও খাবার বা পানীয় অর্ডার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়। গানের ক্ষেত্রেও রয়েছে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব। ধীর গতির গান অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাকে বেশি সময় বসে থাকতে উৎসাহিত করতে পারে। অন্যদিকে ব্যস্ত রেস্তরাঁয় দ্রুত গতির গান পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এছাড়া প্লেটের আকারও খাবারের পরিমাণ সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। একই পরিমাণ খাবার ছোট প্লেটে পরিবেশন করলে তা বেশি বলে মনে হতে পারে। বড় প্লেটে আবার খাবারের পরিমাণ তুলনায় কম দেখাতে পারে।
তবে সব রেস্তরাঁ যে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্রেতাদের বেশি খরচ করানোর জন্য এই কৌশল ব্যবহার করে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলি খাবার পরিবেশন এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতা উন্নত করার পরিকল্পনার অংশ। তাই পরের বার রেস্তরাঁয় গেলে শুধু খাবারের ছবি দেখে অর্ডার নয়, মেনুর দাম এবং নিজের প্রয়োজনটাও একবার ভেবে নিন। কারণ খাবারের স্বাদের পাশাপাশি আপনার সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করতে পারে রেস্তরাঁর পরিবেশ!




