নিউজ ডেস্ক: ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) পঠনপাঠন বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়াল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার মেয়াদ বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিস জারি করা হয়। বন্ধ থাকবে পঠন-পাঠন সহ সব কাজকর্ম। হস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে যেতে বলা হয়েছে সব পড়ুয়াদের।
এর আগে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এবার সেই সময়সীমা আরও প্রায় এক মাস বাড়ানো হল। শুধু পঠনপাঠনই নয়, হস্টেল এবং ক্যাম্পাসের অন্যান্য আবাসিক জায়গাও খালি করার নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে। বন্ধ থাকবে হস্টেলের মেস পরিষেবাও। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপও করা হতে পারে।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে দুই চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। পড়ুয়াদের অভিযোগ, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার কারণেই ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাতজন রিসোর্স পার্সনকে কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। যার বিরোধিতা করে আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়িয়েছে পড়ুয়ারা। কর্তৃপক্ষের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, চুক্তি বাতিলের কারণ কর্তৃপক্ষ জানাতে বাধ্য নয়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। এরপর ৪ অক্টোবর ফের ক্যাম্পাসের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায়। দুই ঘটনায় পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদে ক্লাস বয়কট এবং অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের দাবি, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলার ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে। পাশাপাশি স্বাভাবিক পঠনপাঠন ও হস্টেল পরিষেবা চালুর দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। একদিকে কর্তৃপক্ষের কড়া অবস্থান, অন্যদিকে পড়ুয়াদের আন্দোলন—দুইয়ের টানাপোড়েনে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে SRFTI-র স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ।




