নিউজ ডেস্ক: শান্তি, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে কলকাতার বুকে অনুষ্ঠিত হল মেগা প্রেয়ার র্যালি। ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এই বিশেষ পদযাত্রায় কলকাতা শহর-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিশপ, যাজক, সন্ন্যাসিনী, পাদ্রি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা। প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ হেঁটে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দেন তাঁরা।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা, সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানানো। প্রার্থনা, ধর্মীয় সংগীত এবং একাধিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গোটা কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। এই মেগা প্রেয়ার র্যালির আয়োজন করে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টানদের একটি সংগঠন বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা (Bangiya Christiya Pariseba বা BCP)। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই পদযাত্রার মধ্য দিয়ে সমাজে শান্তি, ভালোবাসা এবং ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
https://www.facebook.com/100067100665390/posts/1436399251940083/?rdid=ACZBSQLEySqeVO9H#
তবে প্রার্থনা সভার পিছনে ছিল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। রাজ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর গত কয়েক মাসে একাধিক হামলা, হুমকি, উপাসনাস্থলে ভাঙচুর এবং প্রার্থনাসভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই ঘটনাগুলির প্রতিবাদ জানাতেও এই জমায়েতের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে BCP। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সম্পাদক হেরড মল্লিকের দাবি, গত পাঁচ মাসে পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের প্রার্থনাসভাকে কেন্দ্র করে ৪৮টি হামলা ও হেনস্তার ঘটনা সরকারি হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে। যদিও বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা আরও বেশি। তাঁর অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ অভিযোগ নিতে চায়নি। এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি BCP-র তরফে আরও জানানো হয়েছে, বুধবার আরএসএসের কার্যকর্তা জিষ্ণু বসুর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। নভেম্বরের শেষের দিকে বিভিন্ন চার্চের নেতৃত্ব এবং BCP-র প্রতিনিধিদের নিয়ে জোর করে ধর্মান্তকরণ সংক্রান্ত অভিযোগ ও ভুল ধারণা দূর করতে যৌথ আলোচনার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে, কলকাতার এই মেগা প্রেয়ার র্যালি শুধু ধর্মীয় প্রার্থনার কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি।




