স্পোর্টস ডেস্ক: শুরুটা ধাক্কা দিয়ে। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল ভারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই জাপানকেই ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এশীয় হকিতে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল হরমনপ্রীত সিংয়ের দল। বৃহস্পতিবার পুরুষদের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে জিতে টানা তৃতীয়বার খেতাব ঘরে তুলল ভারত। সব মিলিয়ে এই প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠবার চ্যাম্পিয়ন হল তারা। এর আগে ২০১১, ২০১৬, ২০১৮, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এই ট্রফি জিতেছিল ভারত।
ফাইনালে অবশ্য শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই কাজুমাসা মাতসুমোতোর দুরন্ত টোমাহক শটে এগিয়ে যায় জাপান। ঘরের মাঠে উপচে পড়া দর্শকের সামনে এমন ধাক্কায় কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারত। প্রথম কোয়ার্টারে আক্রমণে ঝাঁঝ থাকলেও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাব দেখা যায়। জাপানের রক্ষণও বেশ জমাট ছিল। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ২০ মিনিটে পরপর দু’টি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় তারা। কিন্তু জাপানের অধিনায়ক রাইকি ফুজিশিমার চেষ্টা আটকে দেন ভারতীয় রক্ষণের খেলোয়াড়রা।
ভারতের মাঝমাঠে এ দিন বড় ভূমিকা নেন হার্দিক সিং। নিজের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে মাঝমাঠ থেকে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করেন তিনি। অন্যদিকে, রক্ষণে নির্ভরতা জোগান জার্মনপ্রীত সিং। বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে মাঠে নামে ভারত। ৩৩ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার পেলেও অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিংয়ের ড্র্যাগফ্লিক আটকে দেন জাপানের গোলকিপার কিশো কুরোদা। ৩৯ মিনিটে জাপানও পেনাল্টি কর্নার পায়। শোতা ইয়ামাদার চেষ্টা অবশ্য গোলের মুখ দেখেনি।
এর পরেই ম্যাচের রং বদলাতে শুরু করে। ৪২ মিনিটে পরপর দু’টি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে ভারত। দ্বিতীয় সুযোগে আদিত্য অর্জুন লালাগের কাছ থেকে বল পেয়ে ফিরতি বলে গোল করে সমতা ফেরান শিলানন্দ লাকরা। ১-১ হওয়ার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ভারত। ৪৮ মিনিটে হার্দিকের দুরন্ত পাস থেকে রিভার্স হিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দিলপ্রীত সিং। ব্যবধান বাড়ানোর জন্য এর পর জাপানের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে ভারত।
৫৩ মিনিটে ভারতের তৃতীয় পেনাল্টি কর্নার থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন যুগরাজ সিং। পরের মিনিটেই ব্যবধান ৪-১ করেন বিবেক সাগর প্রসাদ। লাকরার প্রথম শট জাপানের গোলকিপার আটকে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে বৃত্তের মাথা থেকে জোরালো শটে জালে পাঠান বিবেক। শেষ বাঁশি বাজার ১২ সেকেন্ড আগে জাপান আরও একটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও ফুজিশিমার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে অপরাজিত থেকেই প্রতিযোগিতা শেষ করে ভারত। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দাপট দেখিয়ে আরও একবার এশিয়ার সেরা হওয়ার প্রমাণ দিলেন হরমনপ্রীতরা।




