কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধারের ঘটনায় এবার সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পার্টি অফিস থেকে টাকা উদ্ধারের গোটা ঘটনাটিই পুলিশের সাজানো চিত্রনাট্য। এমনকি থানার আইসি-র গাড়িতে করে টাকার ব্যাগ নিয়ে গিয়ে পার্টি অফিসে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই দাবির সমর্থনে তাঁর কাছে ভিডিয়ো ফুটেজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিষেক। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার কালীঘাটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন অভিষেক। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই সুমিত রায় তাঁর ব্যক্তিগত সহায়ক। গত ৩১ অক্টোবর কালিতলা-আসুতি এলাকার একটি মামলায় তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ডায়মন্ড হারবারের একটি তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিষেকের বক্তব্য, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কাহিনি তৈরি করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্বল। তিনি জানান, গত ২২ মে ডায়মন্ড হারবার থানার ওসিকে ইমেল করে একটি অভিযোগ জানানো হয়েছিল। ২৩ মে সেই অভিযোগের রিসিভিং কপিও পাওয়া যায়। সেই চিঠিতে পার্টি অফিসের মালিককে জায়গাটি ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
অভিষেকের আরও অভিযোগ, ২১ ও ২২ মে-র মধ্যবর্তী রাতে বিজেপির দুষ্কৃতীরা ওই পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালায়। এমনকি আমতলায় তাঁর অফিসেও হামলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। সেই সময়ই পুলিশকে ইমেল করে গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ভাঙচুরের পর সেখানে কোনও কিছু রেখে দেওয়া হতে পারে।
কিন্তু প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর ওই জায়গা থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ৩ নভেম্বর পেরিয়ে ৪ নভেম্বর রাত ১টা থেকে ৩টের মধ্যে ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি-র ব্যবহৃত কালো এক্সইউভি ৩০০ গাড়িতে করে টাকার ব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পার্টি অফিসে।
এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, তাঁর কাছে সংশ্লিষ্ট গাড়ির ভিডিয়ো ফুটেজ রয়েছে। পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হলে সেই ফুটেজ আদালতে জমা দেবেন। পুরো ঘটনার পিছনে ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপারের নির্দেশ ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে অভিষেকের এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও সামনে আসেনি। পুলিশ বা অভিযুক্ত আধিকারিকদের বক্তব্যও জানা যায়নি। ফলে কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক আরও বাড়ল।




