নিউজ ডেস্ক: X হ্যান্ডেলে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা পোস্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা। ‘শুধু যাওয়া আসা, শুধু স্রোতে ভাসা।’ ভোট বদল, সঙ্গী বদল পোস্টের আসল অর্থ কী? ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন তিনি? নিজেই দিলেন তার ব্যাখ্যা।
সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে তিনি তুলে ধরেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণ ও বারবার জোট বদলানোর এক লম্বা তালিকা। তিনি তথ্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল জোটসঙ্গী ছিল বিজেপি। কিন্তু এর ঠিক পরেই, ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই সমীকরণ বদলে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধেন। সেই অধ্যায়ও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, ২০০৪ সালের লোকসভা ভোট এবং ২০০৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পুনরায় বিজেপির ছত্রছায়ায় ফিরে যান। আবার রাজনৈতিক হাওয়া বুঝে ২০০৯ সালের লোকসভা ও ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁকে কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে ময়দানে নামতে দেখা যায়।
অতীতে বারবার রাজনৈতিক শিবির ও সুবিধামতো জোটসঙ্গী বদলের এই চরিত্রকে কটাক্ষ করতেই যে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মরণ নিয়েছেন, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। ঋতব্রতর কথায়, বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে কবিগুরু অনুপস্থিত। তাই এই ঘন ঘন ভোলবদলকে তুলে ধরতে রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত গানের চরণ "শুধু যাওয়া আসা, শুধু স্রোতে ভাসা" লিখে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
এরপরই ব্যঙ্গের সুরে তিনি পালটা প্রশ্ন তোলেন, এই অকাট্য বাস্তব সত্যটি না লিখে তিনি যদি সামাজিক মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার ভাষায় 'এপাং ওপাং ঝপাং' লিখতেন, তবে কি সমালোচকরা বেশি খুশি হতেন? তাঁর সাফ কথা, গোটা বিষয়টাই আদতে 'এপাং ওপাং ঝপাং' পর্যায়ের রাজনৈতিক দোলাচল।
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাহিত্যচর্চা এবং একসময় তাঁকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়ার দাবি নিয়ে ওঠা আলোচনাকেও তীব্র বিঁধেছেন তিনি। ঋতব্রত বলেন, 'এপাং ওপাং ঝপাং' লিখে কখনো নোবেল পাওয়া যায় না। যাঁরা এই দাবি তুলেছিলেন, তাঁরা যে নোবেল কমিটির কাছে কোনোদিন নাম পাঠাননি, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। তুলনামূলক তথ্য দিয়ে তিনি জানান, একটি সাধারণ মুদ্রিত পাতায় প্রায় ৬০০ শব্দ থাকলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সামগ্রিক জীবনে প্রায় ১৯ হাজার ছাপা পাতা সাহিত্য লিখে গিয়েছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে এমন অর্থহীন ছড়া অবিরাম লিখে গেলেও সেই ঐতিহাসিক সৃষ্টির ধারেকাছে যাওয়া সম্ভব নয়।
তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা না রেখে যখন যে পরিস্থিতি অনুকূল মনে হয়েছে, তখনই সেই অনুযায়ী অবস্থান নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী,আর তারপর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বড় বড় নীতিবাক্য শোনান। কিন্তু নথিবদ্ধ তথ্য কোনোদিন চাপা থাকে না। বাঙালির আসল আত্মপরিচয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি রবীন্দ্রনাথই, আর সেই গভীর দায়বদ্ধতা থেকেই কবিগুরুর সৃষ্টির পঙ্ক্তি ধার করে তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই অবস্থান তুলে ধরেছেন বলে জানান।




