স্পোর্টস ডেস্ক:নিজের ক্রিকেটজীবনে একাধিক অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলেছেন শচীন তেন্ডুলকর। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে আলাদা করে বেছে নিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি। প্রিয় অধিনায়কদের তালিকায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে একেবারে উপরের দিকে রাখলেন তিনি। একই সঙ্গে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়েও মুখ খুললেন শচীন। জানালেন, সেই সময়ে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সব সময় নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার স্বাধীনতা পেতেন না তিনি।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যম রেডিটে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়েছিলেন শচীন। সেখানে এক অনুরাগী তাঁকে প্রশ্ন করেন, ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসাবে তাঁর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? অধিনায়কত্বের দায়িত্বের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে কতটা সমস্যা হয়েছিল? পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার নেতৃত্ব নিয়েও শচীনের মতামত জানতে চান ওই অনুরাগী। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ব্যক্তিগত ভাবে কোন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন তিনি?
উত্তরে ক্রিকেটার মাস্টার বলেন, ‘অধিনায়ক হিসাবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের বিষয় ছিল। তবে সব সময় নিজের পছন্দ অনুযায়ী দল বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আমার ছিল না। নব্বইয়ের দশকের তুলনায় এখন বিসিসিআই অনেক বেশি পেশাদার সংস্থা। সেই সময়ে ভারতীয় ক্রিকেট খুব কঠিন একটা পর্যায়ের মধ্য দিয়েও গিয়েছে।’
এর পরেই নিজের প্রিয় অধিনায়কদের নাম জানান শচীন। তাঁর কথায়, ‘আমার প্রিয় অধিনায়কদের কথা বলতে গেলে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং এমএস ধোনি অবশ্যই তালিকার একেবারে উপরের দিকে থাকবে।’
শচীনের এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই ভারতীয় ক্রিকেটমহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, সৌরভ এবং ধোনি— দু’জনের নেতৃত্বেই ভারতীয় ক্রিকেট একাধিক স্মরণীয় সাফল্য পেয়েছে। সৌরভের নেতৃত্বে বিদেশের মাটিতে ভারতীয় দলের লড়াই করার মানসিকতা বদলে গিয়েছিল। অন্য দিকে, ধোনির অধিনায়কত্বে ভারত জিতেছিল ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১১ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।
সৌরভের নেতৃত্বে ২০০৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনালেও পৌঁছেছিল ভারত। সেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন শচীন। ধোনির নেতৃত্বে ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয় শচীনের। দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনে যে সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন, দেশের মাটিতে সেই বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত তাঁর কাছে ছিল বিশেষ আবেগের।
ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবে দু’দফায় দায়িত্ব সামলেছিলেন শচীন। ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে মোট ২৫টি টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দেন তিনি। তবে তাঁর অধিনায়কত্বের সময়টা খুব একটা সুখকর ছিল না। সেই সময়ে ভারতীয় ক্রিকেট নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। ২০০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে হারের পর অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে তাঁকে আবার অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও রাজি হননি তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটের সেই কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে শচীন বুঝিয়ে দিয়েছেন, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দল নির্বাচন নিয়েও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে।
শুধু ভারতীয় অধিনায়কদের নিয়েই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশংসা করেছেন তিনি। বাভুমার লড়াই করার মানসিকতা এবং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। শচীন বলেন, ‘টেম্বা বাভুমার মানসিকতার আমি সত্যিই প্রশংসা করি। ও সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের জন্য দারুণ কিছু ফল এনে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার আইসিসি ট্রফি জয় বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য খুব ভাল ব্যাপার।’
২০২৫ সালে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই সাফল্যের পিছনে বাভুমার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আইসিসি-র বড় ট্রফি জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। শচীনের মতে, বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নতির জন্য এই ধরনের সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নোত্তর পর্বে মজার ছলেই নিজের বোলিংয়ের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শচীন। তাঁর সময়ের কোন ব্যাটারকে বল করতে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ওদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই বল করতে ভাল লেগেছে, কারণ আমি ওদের প্রত্যেককেই আউট করেছি!




