হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশে উচ্চ মজুরির দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরীর মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এ সময় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন সময়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং সাভারের আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৩০৬টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ জন শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়েছে। ঢাকার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশের প্রায় ৫০ জন সদস্যসহ শতাধিক আহত হয়েছেন।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরে ১১ প্লাটুন বিজিবিসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়কের পাশে থাকা বর্জ্য এনে সড়কে ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। এর ফলে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় এলাকার সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মতো ছোট যান চলাচলেও বাধা দেওয়া হয় এবং অনেক শ্রমিককে মহাসড়কে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেন।
এর আগে, সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের মালিকানাধীন ইন্টার স্টফ কারখানার শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে আসার চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা চারপাশ থেকে ঘিরে রাখায় তারা মহাসড়কে উঠতে পারেননি।
এদিকে, ডিসেম্বরেই নয়, বাংলাদেশের প্রান্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে বলে মনে করছে সরকার। এমন চেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন। জাহেদ উর রহমান বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনা করা হয়। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৩ সালের পর ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল না। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সহানুভূতিশীল অবস্থান থেকে আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।




