নিউজ ডেস্ক: কাশীর বুক দিয়ে বয়ে চলেছে গঙ্গা। প্রতিদিন এই নদীর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন অসংখ্য মানুষ। যানবাহনের চাপ সামলাতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে পুরনো পরিকাঠামোকে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা। তাই এবার এমন এক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা বদলে দিতে পারে উত্তর ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার চেনা ছবি। একই পরিকাঠামোয় সড়ক ও রেলপথের সুবিধা মিললে যাতায়াতের ক্ষেত্রে খুলে যেতে পারে নতুন দিগন্ত।
বারানসিতে গঙ্গার উপর নির্মিত হতে চলেছে একটি অত্যাধুনিক ডাবল-ডেকার সেতু। প্রায় ১.০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু তৈরিতে আনুমানিক ১২০১ কোটি টাকা খরচ ধরা পড়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেতুটির উপরের তলায় থাকবে ছয় লেনের সড়ক পথ। অন্যদিকে, নিচের তলায় তৈরি করা হবে চারটি রেললাইন। অর্থাৎ একই সেতু দিয়ে একদিকে যেমন দ্রুত গতিতে চলবে গাড়ি, তেমনই অন্য দিকে চলাচল করতে পারবে ট্রেন।
প্রস্তাবিত সেতুটি তৈরি হবে ঐতিহাসিক মালব্য সেতুর কাছেই। প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো এই সেতুটি ডাফরিন ব্রিজ নামেও পরিচিত। বর্তমানে সেখানে রয়েছে দুটি রেল লাইন এবং দুই লেনের সড়ক পথ। সময়ের সঙ্গে যানবাহন ও ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পুরনো সেতুর ওপর চাপও ক্রমশ বাড়ছে। সেই চাপ কমাতেই নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন সেতু হলে সড়ক ও রেল, দুই ক্ষেত্রেই যোগাযোগের পরিকাঠামো অনেকটা শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে দিল্লির রেল যোগাযোগ আরও মসৃণ করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। চারটি রেললাইন থাকায় যাত্রীবাহী এবং মালবাহী ট্রেন চলাচলের অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, ছয় লেনের রাস্তা চালু হলে গাড়ির চাপ সামলানোও অনেক সহজ হবে।
এই প্রকল্পের প্রভাব পড়তে পারে পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও। বারানসি বা কাশী ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এই শহরে আসেন। ফলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সুবিধা জনক হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা- বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে গঙ্গার ওপর এই ডাবল-ডেকার সেতু শুধুমাত্র একটি নতুন যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং আধুনিক পরিবহন পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে। পুরনো মালব্য সেতুর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আগামী দিনের বাড়তি চাহিদা সামলানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এখন নজর প্রকল্পের নির্মাণকাজ এবং নির্ধারিত সময়সীমার দিকে। বাস্তবে সেতুটি তৈরি হয়ে চালু হলে কাশীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, তা বলাই যায়।




