নিউজ ডেস্ক: বাড়িতে ছোট্ট একটি ঠাকুরঘর থাকুক, এমন ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। সকাল-সন্ধ্যায় পুজো, ধূপ-প্রদীপ জ্বালানো কিংবা বিশেষ দিনে প্রার্থনা—সবকিছুর জন্য বাড়ির মন্দিরের গুরুত্ব আলাদা। কিন্তু বাড়ির মন্দির কোথায় তৈরি করা উচিত? দেবদেবীর মূর্তি কোন দিকে মুখ করে রাখলে শুভ বলে মনে করা হয়? এই প্রশ্নগুলি অনেকের মনেই থাকে।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিক অর্থাৎ ঈশান কোণকে ঠাকুরঘরের জন্য সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, এই দিকটি পুজো ও ধ্যানের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে। তবে বাড়ির নকশা অনুযায়ী এই দিকে ঠাকুরঘর তৈরি করা সম্ভব না হলে উত্তর বা পূর্ব দিকও অনেকেই বেছে নেন। মূর্তি রাখার ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু প্রচলিত নিয়ম। বাস্তুবিশ্বাস অনুযায়ী, দেবদেবীর মূর্তি এমনভাবে রাখা উচিত যাতে পুজো করার সময় ভক্ত পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসতে পারেন। অনেকের মতে, মূর্তির মুখ পশ্চিম বা পূর্ব দিকে রাখা যেতে পারে। তবে দেবদেবীভেদে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রথা অনুযায়ী নিয়মের পার্থক্য রয়েছে।
ঠাকুরঘর তৈরির সময় আরও কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। পুজোর জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। মূর্তি সরাসরি মেঝেতে না রেখে পরিষ্কার আসন বা বেদির উপর রাখুন। ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি দীর্ঘদিন ঠাকুরঘরে না রাখার পরামর্শও প্রচলিত ধর্মীয় রীতিতে পাওয়া যায়। এছাড়াও ঠাকুরঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকা ভালো। প্রদীপ বা ধূপ জ্বালানোর সময় অবশ্যই আগুনের নিরাপত্তার দিকে নজর রাখুন।
তবে মনে রাখতে হবে, বাস্তুশাস্ত্রের এই নির্দেশগুলি মূলত ঐতিহ্যগত বিশ্বাস ও প্রচলিত ধারণার উপর নির্ভরশীল। এগুলির মাধ্যমে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আসলে ঠাকুরঘরের আসল গুরুত্ব তার দিকনির্দেশে নয়, বরং সেখানে থাকা শান্ত পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং মানুষের বিশ্বাসে। তাই বাড়ির মন্দির সাজানোর সময় নিয়মের পাশাপাশি নিজের সুবিধা ও নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিন।




