নিউজ ডেস্ক: এবার জঙ্গলমহলেই দেখা মিলবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের! পর্যটকদের জন্য বড় চমক নিয়ে আসছে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্ক। বিদেশের ধাঁচে এবং শিলিগুড়ির মডেল অনুসরণ করে তৈরি হচ্ছে বিশাল টাইগার সাফারি পার্ক। পরিকাঠামো তৈরির কাজ শেষ হলেই সেখানে আনা হবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। পাশাপাশি চিতাবাঘ-সহ আরও কয়েক প্রজাতির বন্যপ্রাণী আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী দু’বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হতে পারে।
টাইগার সাফারি তৈরির জন্য ২২৬.৩৭ একর জমি বনদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আপাতত প্রায় ৬৫ একর জমিতে সাফারি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে মাত্র দেড় থেকে দু’কিলোমিটারের মধ্যে ধবনি বিট এলাকায় অবস্থিত এই জুলজিক্যাল পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশই অন্যতম আকর্ষণ।
একসময় বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হওয়া হরিণদের এখানে রাখা হত। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ চিড়িয়াখানা হিসেবে গড়ে উঠেছে জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্ক। পশুদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে হাসপাতাল এবং উন্নতমানের থাকার এনক্লোজার। বর্তমানে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩৩৯টি পশু, পাখি ও সরীসৃপ রয়েছে। লেপার্ড, হায়না, নেকড়ে, ভালুক, ফিশিং ক্যাট, জঙ্গল ক্যাট, নীলগাই, সজারু, ময়ূর-সহ একাধিক বন্যপ্রাণী রয়েছে এই পার্কে। চিতল হরিণ, শম্বর এবং বার্কিং ডিয়ারও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ, আসছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার
বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ সম্প্রতি প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, রাজ্যের প্রথম বাজেটেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঝাড়গ্রাম টাইগার সাফারির জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই সাফারি চালু হলে ঝাড়গ্রামের পর্যটন শিল্পে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে বছরে প্রায় দু'লক্ষ পর্যটক এই এলাকায় আসেন। সাফারি চালু হলে পর্যটকের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদী প্রশাসন।
কোথা থেকে আসবে বাঘ?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিলিগুড়ির সাফারি পার্ক থেকে উদ্বৃত্ত পাঁচটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আনার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি চিতাবাঘ, হগ ডিয়ার এবং স্পটেড ডিয়ারও আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য জু অথরিটি বাঘগুলি চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি সেন্ট্রাল জু অথরিটির অনুমোদনের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, টাইগার সাফারি চালু হলে ঝাড়গ্রামের পর্যটন মানচিত্রে নতুন সংযোজন হতে চলেছে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।




