নিউজ ডেস্ক: হাসপাতালের ভিতরে তখন চিকিৎসাধীন ৯ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে দু’জন আইসিইউতে ভর্তি। এমন পরিস্থিতিতেই নার্সিংহোমে ঢুকে ভাঙচুর, হামলা এবং রোগীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক প্রোমোটার ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। এমনকী, চিকিৎসক ও নার্সদেরও মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই জমি নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলাও চলছে। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একদল দুষ্কৃতী নার্সিংহোমে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। সেই সময় হাসপাতালে মোট ৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ছিলেন আইসিইউতে। অভিযোগ, চিকিৎসাধীন রোগীদেরও হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর নার্সিংহোমের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় প্রোমোটার সঞ্জীব বিশ্বাসের হাত রয়েছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তাঁর সঙ্গে শাসকদলের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনা জানিয়ে নিউটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রোমোটার সঞ্জীব বিশ্বাস। তাঁর পালটা দাবি, যে জমির উপর নার্সিংহোমটি তৈরি হয়েছে, সেটি তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ভাড়া বাবদ কয়েক কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। শুধু তাই নয়, নার্সিংহোমটির লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি তাঁর। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় বৈধতা ছাড়াই সেখানে রোগী ভর্তি করে চিকিৎসা চালানো হচ্ছিল।
ফলে জমির মালিকানা, বকেয়া ভাড়া এবং হাসপাতালের লাইসেন্স—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। একদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে প্রোমোটারের পালটা দাবি। দুই পক্ষের বক্তব্য ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
আদালতে জমি সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কীভাবে একটি নার্সিংহোমে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে এবং জমি সংক্রান্ত বিবাদের প্রকৃত পরিস্থিতি কী, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।




