আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নাম নিয়ে কটাক্ষ, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণ, নির্বাচনী প্রচারে একের পর এক বিতর্ক! কিন্তু কোনও কিছুই দমাতে পারেনি তাঁকে। সব বাধা পেরিয়ে আমেরিকার রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন চিকিৎসক তথা ডেমোক্র্যাট নেতা আব্দুল এল-সায়েদ। মিশরের অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই রাজনীতিকই হতে চলেছেন আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর। তাঁর জয়কে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
মিশিগানে নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে এল-সায়েদ বলেন, “মিশিগান, উই ডিড ইট।” একই সঙ্গে নিজের জয়ের জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। তাঁর কথায়, অনেকেই হয়তো এমন একজন প্রার্থীর উপর বাজি ধরার কথা ভাবেননি। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করেছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই আস্থারই প্রতিফলন এই জয়।
তবে নির্বাচনী লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রচারের সময় বিরোধী শিবিরের একাংশ তাঁর মুসলিম ধর্মীয় পরিচয় এবং নামকে কেন্দ্র করে আক্রমণ শানিয়েছিল বলে অভিযোগ। জয়ের পর সেই প্রসঙ্গ তুলে এল-সায়েদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কুৎসিতভাবে প্রচার চালানো হয়েছিল। তাঁর নাম এবং বিশ্বাস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটাররা সেই প্রচারে প্রভাবিত হননি।
এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে আত্মবিশ্বাসী রজার্স তাঁর সমর্থকদের বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ঘুম থেকে উঠলেই তাঁরা নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী হিসেবে দেখতে পাবেন। কিন্তু নির্বাচনের ফল সম্পূর্ণ অন্য ছবি তুলে ধরেছে।
পেশায় চিকিৎসক আব্দুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবেও কাজ করেছেন। চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতাই রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এবার তাঁর নির্বাচনী সাফল্য আমেরিকার রাজনীতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিশিগানে অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছিল রিপাবলিকান শিবির। সেই রাজ্যেই এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এই সাফল্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরের বিরুদ্ধে একাধিক জায়গায় ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের আবহে এল-সায়েদের জয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।




