নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের নামে কি চলছিল চিকিৎসার ব্যবসা? একটি জেরক্স করা প্রেসক্রিপশনকে হাতিয়ার করেই গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে। রোগ নির্ণয়ের নামে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার ওষুধ বিক্রির অভিযোগ ঘিরে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে আটকে পড়েন চারজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনাটি গলসির পোতনা গ্রামের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বাসিন্দাদের নাম নথিভুক্ত করেন। এরপর গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, শিবিরে প্রথমে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ৫০ টাকা এবং মেশিনের সাহায্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য আরও ২০০ টাকা নেওয়া হত।
কিন্তু অভিযোগ, এখানেই শেষ নয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর রোগ নির্ণয়ের কথা বলে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছিল। সেই ওষুধের দাম ছিল ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। ওষুধের গুণমান এবং চিকিৎসার বৈধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের একটি প্রেসক্রিপশনের জেরক্স দেখিয়ে ওই স্বাস্থ্য শিবির চালানো হচ্ছিল। অথচ সেখানে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসার নামে এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছিল কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা চারজনকে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে গলসি থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের তরফে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিবির পরিচালনার অনুমতি ছিল কি না, ব্যবহৃত প্রেসক্রিপশনের বৈধতা কতটা, ওষুধগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এই ঘটনার পিছনে আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম। তাঁর বক্তব্য, যে প্যাডের ছবি সামনে এসেছে, তার সঙ্গে সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার কোনও যোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই জেলায় ভুয়ো চিকিৎসকের চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে চার বছরের শিশু অরণ্য রায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের স্বাস্থ্য শিবির ঘিরে এমন অভিযোগ সামনে আসায় গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।




