নিউজ ডেস্ক: সকালবেলা ঘুম ভাঙতেই কানে এল চিৎকার-চেঁচামেচি। কী হয়েছে দেখতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসতেই চোখের সামনে ভয়াবহ দৃশ্য! স্ত্রীর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে বাড়ির পাশের মন্দিরে বসে রয়েছেন এক ব্যক্তি। শুধু তাই নয়, অন্য হাতে ধরা ছিল একটি কাটারি। প্রতিবেশীদের চিৎকার, আতঙ্ক কোনও কিছুতেই যেন হুঁশ ফেরেনি তাঁর। বুধবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর শহরের এই ঘটনায় শিউরে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম রিন্টু ঘোষ। গঙ্গারামপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা তিনি। স্ত্রী সীমা সরকারকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি মন্দিরে রিন্টুকে বসে থাকতে দেখেন এলাকার কয়েক জন বাসিন্দা। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কারও সন্দেহ হয়নি। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পরেও তাঁকে মন্দির থেকে বেরোতে না দেখে এক প্রতিবেশী ভিতরে উঁকি দেন। আর তারপরই সামনে আসে ভয়াবহ ঘটনা। মন্দিরের ভিতরে রিন্টুর হাতে স্ত্রীর কাটা মুন্ডু দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন তিনি। সেই চিৎকার শুনে আশপাশের বাড়ি থেকে ছুটে আসেন অন্য বাসিন্দারাও।
প্রতিবেশীদের দাবি, লোকজনের ভিড় জমতে দেখে কাটা মুন্ডু হাতে নিয়েই মন্দির থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন অভিযুক্ত। তাঁর অন্য হাতে ছিল একটি কাটারি। এমন দৃশ্য দেখে ভয়ে পিছিয়ে যান স্থানীয়রা। দ্রুত খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিন্টুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয় তাঁর স্ত্রী সীমা সরকারের মুন্ডু এবং ধড়বিহীন দেহ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দাম্পত্য অশান্তির জেরেই কি খুন?
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক দাবি, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের জেরেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও খুনের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রতিবেশীদের কথায়, রিন্টু আগে সরকারি বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে সেই কাজ ছেড়ে দেন। এরপর বাড়িতেই থাকতেন তিনি। মাঝে ছোটখাটো ব্যবসাও করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রিন্টুর এক আত্মীয়ের দাবি, সংসারে স্ত্রী ও দুই সন্তান ছিল। কিন্তু এমন ভয়াবহ ঘটনা কী কারণে ঘটল, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। স্থানীয়দের আরও দাবি, কিছুদিন ধরে রিন্টুর আচরণে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
আপাতত অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। পারিবারিক অশান্তি, নাকি অন্য কোনও কারণ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পিছনে আসল রহস্য কী, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলাকায়।




