নিউজ ডেস্ক: ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে কংগ্রেস। আর সেই প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উঠে আসছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো থেকে শুরু করে বিরোধী জোটের সমীকরণ চূড়ান্ত করা সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা নিতে চলেছেন তিনি। বিশেষ করে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে INDIA জোটের মহাসমাবেশ শেষ হওয়ার পর এবার উত্তরপ্রদেশের দিকে নজর দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন কংগ্রেসের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই রাজ্যে দলের সংগঠন মজবুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশে প্রিয়াঙ্কার সক্রিয় ভূমিকা
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশের আগেও এই রাজ্যে দলের প্রচার ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁকে সক্রিয় দেখা গিয়েছে। এবার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও বড় দায়িত্ব নিতে পারেন তিনি।
কংগ্রেসের লক্ষ্য, রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং কর্মীদের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সক্রিয়তা তৈরি করা। পাশাপাশি কোন এলাকায় কীভাবে প্রচার চালানো হবে, কোন নেতাদের সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াই এগোবে, সেই কৌশল নিয়েও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটের অঙ্ক
এই নির্বাচনে কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক। অখিলেশ যাদবের দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা এবং বিরোধী ভোট একত্রিত করার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি একসঙ্গে লড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জোটের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আসন বণ্টন, নেতৃত্ব এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও সামনে আসেনি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ২০২৭-এর লড়াই?
উত্তরপ্রদেশ দেশের সবচেয়ে বেশি বিধানসভা আসন থাকা রাজ্য। জাতীয় রাজনীতিতেও এই রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই ২০২৭ সালের ভোটকে ঘিরে বিজেপি, সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস প্রতিটি দলের কাছেই রাজনৈতিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সাম্প্রতিক তৎপরতা থেকে স্পষ্ট, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস এবার অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নামতে চাইছে। তবে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং কংগ্রেস নিজেদের সংগঠন কতটা শক্তিশালী করতে পারে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পদক্ষেপেই।




