দার্জিলিং: পাহাড়ে এ বার আদালত স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা। দার্জিলিঙের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড বা শিশু আদালত অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হলেন স্থানীয় আইনজীবীরা। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে দার্জিলিং বার অ্যাসোসিয়েশন। আইনজীবীদের দাবি, জেলা সদর দার্জিলিং থেকে গুরুত্বপূর্ণ আদালত সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে বিচারপ্রার্থীদের পাশাপাশি পাহাড়ের সাধারণ মানুষেরও সমস্যা বাড়বে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের বিচার সংক্রান্ত মামলায় দূরত্ব এবং যাতায়াতের অসুবিধা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দার্জিলিংয়ের আইনজীবীদের বক্তব্য, শিশু আদালত কোনও সাধারণ প্রশাসনিক দফতর নয়। নাবালক অভিযুক্ত এবং আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া শিশুদের বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে এই আদালত সরাসরি যুক্ত। ফলে আদালতের অবস্থান পরিবর্তনের আগে স্থানীয় বাস্তবতা, বিচারপ্রার্থীদের সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের সমস্যাগুলি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, আইনজীবীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই আদালত স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে। কর্মবিরতির ফলে দার্জিলিং আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্মেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন মামলার শুনানি, জামিন সংক্রান্ত আবেদন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, পাহাড়ের ভৌগোলিক পরিস্থিতি এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে বিচারপ্রার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আদালতে পৌঁছতে এমনিতেই অনেকটা পথ অতিক্রম করতে হয়। তার উপর আদালত অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলে যাতায়াতের খরচ ও সময় দুটোই বাড়বে। নাবালকদের নিয়ে আদালতে হাজিরা দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই সমস্যা আরও বেশি হবে।
উল্লেখ্য, দার্জিলিংয়ে আদালতের অবস্থান এবং জেলা সদর হিসেবে শহরের গুরুত্ব নিয়ে এর আগেও একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় বিভিন্ন দফতর শিলিগুড়িতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধেও অতীতে সরব হয়েছিলেন পাহাড়ের আইনজীবীরা। ফলে জুভেনাইল আদালত স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে সেই পুরনো বিতর্ক সামনে এসেছে।
দার্জিলিং জেলা আদালতের সরকারি ওয়েবসাইটেও সম্প্রতি নির্মিত শিশু-বান্ধব আদালতের উল্লেখ রয়েছে। শিশুদের উপযোগী পরিবেশে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য এই ধরনের পরিকাঠামোর গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে আদালত স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের পিছনে প্রশাসনিক যুক্তি কী এবং নতুন জায়গায় শিশুদের জন্য কী ধরনের পরিকাঠামো থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সব মিলিয়ে আদালত স্থানান্তর নিয়ে প্রশাসন ও আইনজীবীদের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে পাহাড়ে। এক দিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অন্য দিকে বিচারপ্রার্থীদের সুবিধা এবং স্থানীয় আইনজীবীদের আপত্তি। এই পরিস্থিতিতে কর্মবিরতির জেরে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।




