নিউজ ডেস্ক : শিশুদের সুস্থতা ও পুষ্টির কথা মাথায় রেখে সরকারি উদ্যোগে প্রতিদিন খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অভিভাবকদেরও ভরসা, সরকারি কেন্দ্র থেকে পাওয়া খাবার তাঁদের শিশুদের জন্য অন্তত নিরাপদ হবে। কিন্তু সেই খাবারই যদি বাড়িতে এনে খেতে গিয়ে চোখে পড়ে এমন কিছু, যা থাকার কথা নয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। খাবারের গুণমান থেকে শুরু করে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার একটি আইসিডিএস কেন্দ্রের ঘটনায় সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এল।
সরকারি আইসিডিএস কেন্দ্রের শিশুদের জন্য রান্না করা খিচুড়িতে মরা মাকড়সা থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল নামখানার শিবনগর আবাদ এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নামখানা ইউনিয়ন নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের আইসিডিএস কেন্দ্র থেকে শিশুদের জন্য রান্না করা খিচুড়ি বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন এলাকার বাসিন্দা অনুপম পাল। সকালে কেন্দ্র থেকে খাবার নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। পরে, বাড়িতে আনা খিচুড়ির মধ্যে মরা মাকড়সা দেখতে পান তাঁর স্ত্রী সুস্মিতা পাল। এমন দৃশ্য দেখে রীতিমত চমকে যান তিনি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়ায়।
এরপরই বিষয়টি আইসিডিএস কর্মী সীতা ওঝাকে জানান তিনি। অভিযোগ ঘটনার কথা শুনে ওই কর্মী রান্নাঘর অন্ধকার থাকার কথা উল্লেখ করেন। তবে কিভাবে খিচুড়ির মধ্যে মাকড়সাটি এল, তা এখন স্পষ্ট নয়। মাকড়সাটি রান্নার সময় পড়েছিল, নাকি অন্য কোথাও থেকে খাবারে এসেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।আইসিডিএস কর্মীর সীতা ওঝার দাবি, ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত নন তিনি। তবে, রান্নাঘর থেকে মাকড়সাটি এসে থাকলে তা তাঁদের ভুল এবং আগামী দিনে আরও সতর্কতার সঙ্গে খাবার রান্না করা হবে।
তবে, এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে। কারণ অভিযোগ অনুযায়ী, ততক্ষণে কেন্দ্রের অধিকাংশ শিশু খিচুড়ি খেয়ে নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে শিশুদের খাবারের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি আইসিডিএস কেন্দ্রের রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিয়মিত নজরদারি এবং খাবারের পরিছন্নতা বজায় রাখার দাবি উঠেছে। শিশুদের পুষ্টির জন্য বরাদ্দ খাবার যেন কোনওভাবেই তাঁদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার আর্জি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।




