নিউজ ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কোন দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারবে, আর কারা পড়বে নিষেধাজ্ঞার আওতায়, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। এমন পরিস্থিতিতে তেহরানের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ভারতীয় জাহাজ গুলিকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান সরকার। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি সংক্রান্ত কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ হায়াত-মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, ভারত সহ কয়েকটি দেশের জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। ভারত ছাড়াও চীন, ইরাক এবং কাতারকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, এই ছাড় দেওয়ার পিছনে রয়েছে বাণিজ্যিক ও মানবিক প্রয়োজনীয়তা। বিশেষ করে ওষুধ আমদানির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত থেকে ইরানে ওষুধ সরবরাহের ক্ষেত্রে যাতে কোনও বাধা তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই ভারতীয় জাহাজের চলাচল সহজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে, দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে, এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, কূটনৈতিক স্তরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানা গিয়েছে। বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে ইরানের শীর্ষ মহলে আলোচনা চললেও সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রয়েছে। এমন আবহে ভারতীয় জাহাজের জন্য এই বিশেষ ছাড় কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের। তবে, এই ঘোষণাকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




