নিউজ ডেস্ক: রাজনীতির ময়দানে একে অপরকে নিশানা করা নতুন কিছু নয়। তবে, এবার বাকযুদ্ধের গণ্ডি ছাড়িয়ে সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন এক শীর্ষ বিরোধী নেতা। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর দেশবিরোধী তকমা দেওয়ার রাজনীতির মধ্যেই উঠল প্রকাশ্য বিতর্কের প্রসঙ্গ। দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এমন এক প্রস্তাব সামনে এসেছে, যা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের এই চ্যালেঞ্জে কি শেষ পর্যন্ত সাড়া দেবেন প্রধানমন্ত্রী?
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নিশানায় এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদেশি শক্তির প্রভাব এবং বিরোধীদের দেশবিরোধী তকমা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। সম্প্রতি গুজরাটে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের একাংশের বিরুদ্ধে দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা, গুজব ছড়ানো এবং বিদেশি ও ভারত বিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে অস্থিরতা তৈরীর অভিযোগ তোলেন।
এরপরেই পাল্টা আক্রমণ সানান রাহুল। ২ নভেম্বর, সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তাঁর দাবি বিদেশি সাহায্য নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমনকি ভারতের আর্থিক ব্যবস্থা এবং সমাজমাধ্যমের ওপরও বিদেশি শক্তির প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে মোদীকে প্রকাশ্যে বিতর্কে বসার আহ্বান জানান। রাহুলের স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ, যে কোনও মঞ্চে, যে কোনও সময়ে এই বিতর্ক হতে পারে।
পরের দিন অর্থাৎ ৩ নভেম্বর ফের একই দাবি সামনে আনেন কংগ্রেস সাংসদ। বিরোধীরা দেশবিরোধী, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন অভিযোগের প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ্যে বিতর্কে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। এই আলোচনায় সংবাদমাধ্যম, দেশের যুবসমাজ এবং একটি আলোচনার টেবিল রাখার প্রস্তাবও দিয়েছেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, স্বচ্ছতার স্বার্থেই এই বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
তবে, রাহুলের প্রস্তাবকে ঘিরে পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দাবি, প্রকাশ্য মঞ্চে বিতর্কের পরিবর্তে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ইভিএম, ভোট চুরি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে আলোচনা করুক রাহুল। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও রাহুলের চ্যালেঞ্জকে কটাক্ষ করেছেন। সব মিলিয়ে মোদী-রাহুলের রাজনৈতিক সংঘাত এবার প্রকাশ্যে বিতর্কের মঞ্চে পৌঁছয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




