স্পোর্টস ডেস্ক: স্পেনের দ্বিতীয় ডিভিশনের ম্যাচে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে টেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেলের। বয়স হয়েছিল মাত্র ৩০ বছর। সোমবার এফসি আন্দোরার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষ গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ক্লাব। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব ফুটবলে। লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জেরার পিকে-সহ একাধিক তারকা ফুটবলার শোকপ্রকাশ করেছেন।
দে মিগেলের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে শোকবার্তা জানান মেসি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লেখেন, ‘কোনও ভাষা নেই। ওঁর পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি আমার সমবেদনা ও শক্তি কামনা করছি। শান্তিতে বিশ্রাম নাও।’
রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা এমবাপেও শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত বার্তা, ‘এত দুঃখের খবর। বলার মতো কোনও ভাষা নেই।’ প্রাক্তন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার এবং এফসি আন্দোরার অন্যতম মালিক পিকেও শোকবার্তা দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘আমি অন্তর থেকে দুঃখিত। শান্তিতে বিশ্রাম নাও, হেসুস।’
শুধু ফুটবলাররাই নন, স্পেনের একাধিক ক্লাব এবং ফুটবল সংস্থা এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছে। বার্সেলোনা জানিয়েছে, ‘এই কঠিন সময়ে আমরা ওঁর পরিবার, বন্ধু এবং প্রিয়জনদের পাশে রয়েছি।’ রিয়াল মাদ্রিদের তরফেও দে মিগেলের পরিবার, সতীর্থ, ক্লাব এবং ঘনিষ্ঠদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
টেনেরিফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েছি আমরা। গলায় কান্না আটকে আসছে। এই খবর সত্যি বলে বিশ্বাস করতে পারছি না। হেসুস দে মিগেল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা জানাচ্ছে সিডি টেনেরিফ। সান্ত্বনা দেওয়ার কোনও ভাষা নেই। এই গভীর শোক কমানোরও কোনও উপায় নেই।’
কী ভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? সোমবার টেনেরিফের মাঠে আন্দোরার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলছিল। দুই দলই তখন ২-২ গোলে সমতায়। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে দীর্ঘ বলের পিছনে ছুটছিলেন দে মিগেল। সেই সময় নিজের পেনাল্টি বক্স ছেড়ে অনেকটা বেরিয়ে আসেন আন্দোরার গোলকিপার হেসুস ওনো। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তাঁর হাঁটু সজোরে আঘাত করে দে মিগেলের বুকে। সংঘর্ষের পরই মাঠে লুটিয়ে পড়েন টেনেরিফের স্ট্রাইকার।
দুই দলের ফুটবলাররা সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার জন্য মাঠের বাইরে ইঙ্গিত করেন। বেশ কয়েক মিনিট ধরে মাঠেই চিকিৎসা চলে দে মিগেলের। পরে অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের চেষ্টার পরেও তাঁর হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। ম্যাচের শেষ দিকে এই ঘটনার পর খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন রেফারি। ওনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল।
এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্পেনের পুলিশ। সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর অভিযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শুরু হওয়া মানেই গোলকিপারের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। স্পেনের আইন অনুযায়ী অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু হওয়া নিয়মিত প্রক্রিয়া। অন্য দিকে, দুর্ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে ওনোর বিরুদ্ধে নানা ধরনের আক্রমণ শুরু হয়। পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
এই ঘটনার অভিঘাত পড়েছে স্পেনের ফুটবল সূচিতেও। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন মঙ্গলবারের কোপা দেল রে এবং কোপা দে লা রেইনার ম্যাচগুলি স্থগিত করেছে। উয়েফাও জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলাররা অনুশীলনের আগে নীরবতা পালন করেন। স্পেনের অন্য ক্লাবগুলিও বিভিন্ন ভাবে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রয়াত ফুটবলারকে।
১৯৯৬ সালে মাদ্রিদে জন্ম দে মিগেলের। ২০১৫ সালে লেগানেসের দ্বিতীয় দলের হয়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু। পরবর্তী সময়ে স্পেনের একাধিক ক্লাবে খেলেছেন তিনি। ২০২৩ সালে কাস্তেয়নে যোগ দেওয়ার পর গোল করার দক্ষতায় নজর কাড়েন। ২০২৫ সালে টেনেরিফে আসেন। গত মরসুমে ১১টি গোল করেছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও এক বছরের কন্যাসন্তানকে রেখে গেলেন এই স্প্যানিশ ফুটবলার।




