স্পোর্টস ডেস্ক: ওল্ড ট্রাফোর্ডে এ যেন এক অবিশ্বাস্য রূপকথা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিছিয়ে থেকেও এএস রোমাকে ৩-২ গোলে হারালো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের প্রথমার্ধে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে যখন টানা ১০ ম্যাচ জয়হীন থাকার লজ্জার মুখে দাঁড়িয়ে রেড ডেভিলরা, ঠিক তখনই দ্বিতীয়ার্ধে দেখা গেল এক ভিন্ন রুদ্রমূর্তি। ব্রাজিলিয়ান মাথেউস কুনহার জাদুকরী জোড়া গোল এবং অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজের পেনাল্টিতে রোমা-কে উড়িয়ে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াল মাইকেল ক্যারিকের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের চরম এলোমেলো সুযোগ নিয়ে চেপে ধরে রোমা। ১১ মিনিটে রদ্রিগো মোরার পাস থেকে অরক্ষিত অবস্থায় বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে রোমাকে ০-১’এ এগিয়ে দেন মাতিয়াস সুলে। এরপর ১৭ মিনিটে ব্যবধান বেড়ে হয় ০-২। ডি-বক্সে ইউনাইটেডের তরুণ ডিফেন্ডার এইডেন হেভেনের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় রোমা। স্পট-কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডনিয়েল মালেন।
প্রথমার্ধের খেলা শেষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যখন টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে যাচ্ছিল, তখন গ্যালারিতে থাকা ঘরের সমর্থকেরা নিজেদের দলের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ হয়ে চরম ধিক্কার দিতে থাকেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘটলো ইউনাইটেডের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। সেকেন্ডহাফের শুরুতেই ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন ইউনাইটেডের কার্লোস বালেবা, যা স্বাগতিকদের আরও চাপে ফেলে দেয়। তবে ম্যাচের মোড় ঘোরে ৫৮ মিনিটে। ডি-বক্সে মাথেউস কুনহা ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড। ব্রুনো ফার্নান্দেজের নেওয়া প্রথম শটটি রোমার গোলরক্ষক ডেভিস ভাসকুয়েজ আটকে দিলেও, শট নেওয়ার আগেই রোমার খেলোয়াড় ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে বক্সে ঢুকে পড়ায় নাটকীয় ভাবে রেফারি পুনরায় পেনাল্টির নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় সুযোগে কোনো ভুল না করে জাল কাঁপান ব্রুনো। এরপর একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ইউনাইটেড, ব্রায়ান এমবিউমোর একটি শট দুই পোস্টে লেগে ফিরে আসলে পেন্ডুলামের মতো ঝুলতে থাকে ম্যাচের ভাগ্য।
ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল। একেবারে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ওঠে কুনহা-ঝড়। শেষ ১০ মিনিটে ওল্ড ট্রাফোর্ডকে উল্লাসে মাতান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মাথেউস কুনহা। প্রথমে ৮৩ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের বাড়ানো ক্রসটি রোমার ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, ফাঁকায় থাকা কুনহা দারুণ দক্ষতায় বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান। এবং গোল ব্যবধান কমিয়ে করেন ২-২। ৮৬ মিনিট অর্থাৎ সমতা ফেরার মাত্র ৩ মিনিট পর, ইউনাইটেডের একাডেমি থেকে উঠে আসা তরুণ বদলি খেলোয়াড় শিয়া লেসির বাড়ানো পাস থেকে নিখুঁত কোণাকুণি শটে রোমার জালে বল পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন কুনহা। ম্যাঞ্চেস্টার এগিয়ে যায় ৩-২ গোল ব্যবধানে। ওল্ড ট্রাফোর্ডের গ্যালারি তখন রূপ নেয় এক উন্মাতাল উৎসবে।
এইদিন গোলের পর জার্সি খুলে দর্শকদের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়ে বুনো উল্লাস করার কারণে প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেছিলেন কুনহা। এরপর ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে অর্থাৎ ৯১ মিনিটে বালের্দিকে একটি কড়া ট্যাকল করায় রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান। ১০ জনের দলে পরিণত হলেও বাকি সময়টা সফলভাবে পার করে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউনাইটেড।
এই মহাকাব্যিক জয়ের ফলে বরখাস্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা কোচ মাইকেল ক্যারিক কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকার লড়াইয়ে নতুন অক্সিজেন পেল রেড ডেভিলরা।




