ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৭ সাল থেকে ইজরায়েলকে আর্থিক অনুদান বন্ধ করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইজরায়েলকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার নীতিতে এবার বদল আনতে চাইছে ওয়াশিংটন। তবে আর্থিক সাহায্য বন্ধ হলেও ইজরায়েলের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি অব্যাহত রাখবে আমেরিকা। ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? ট্রাম্পের যুক্তি, আমেরিকার আর্থিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল থাকার আর প্রয়োজন নেই ইজরায়েলের। নিজেদের অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তি পরিচালনা করার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা তৈরি হয়েছে দেশটির। ফলে বিপুল পরিমাণ মার্কিন আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা যেতে পারে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, বিষয়টি প্রথম তাঁর নজরে এনেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গত দু’বছর ধরে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের বক্তব্য, ইজরায়েলকে দেওয়া বিপুল অঙ্কের সাহায্য এখন আর আগের মতো প্রয়োজনীয় নয়।
আমেরিকার অন্দরেও বাড়ছে চাপ
ইজরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া নিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একাধিক নেতা ও প্রার্থীর মধ্যে এই সাহায্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের কথায়, এই সাহায্যকে নগদ অর্থ কিংবা সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, দুইভাবেই বিবেচনা করা যায়। তাঁর মতে, সাহায্যের পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
গাজা সংঘাতের পর কত খরচ আমেরিকার?
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইজরায়েলকে বিপুল সামরিক সহায়তা দিয়েছে আমেরিকা। প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মিলিয়ে ইজরায়েলকে অন্তত ২১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে।
এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক অভিযান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে আমেরিকার অতিরিক্ত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার খরচের হিসাব উঠে এসেছে একটি স্বাধীন গবেষণায়।
২০২৭ সাল থেকে ইজরায়েলকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করার ট্রাম্পের ঘোষণা আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং নেতানিয়াহু সরকারের প্রতিক্রিয়া কী হবে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।




