নিজস্ব প্রতিবেদন : যুব অলিম্পিকের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন ভারতের রাজকুমারী লানচেনবি চানু। সেনেগালের ডাকারে চলতি যুব অলিম্পিকে মহিলাদের চাংছুয়ান কম্বাইন্ড বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে উশুতে ভারতকে প্রথম পদক এনে দিলেন মণিপুরের এই তরুণী। তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় উশুর অগ্রগতির ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মঙ্গলবারের এই পদক জয়ের ফলে ডাকারে ভারতের পদকসংখ্যাও বেড়ে হল তিন।
চাংছুয়ান কম্বাইন্ড বিভাগে মোট ১৮.০৩৯ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন রাজকুমারী। এই বিভাগে প্রতিযোগীদের দু’টি আলাদা রুটিনে নিজেদের দক্ষতা দেখাতে হয়। একটি অস্ত্র ব্যবহার করে পরিবেশিত গুনশু, অন্যটি খালি হাতে চাংছুয়ান। দু’টি বিভাগের প্রাপ্ত নম্বর যোগ করেই চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হয়। রাজকুমারী গুনশুতে পান ৮.৭২৩ পয়েন্ট। সেই পর্বের শেষে তিনি ছিলেন চতুর্থ স্থানে। কিন্তু পরের পর্বে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। চাংছুয়ানে ৯.৩১৬ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। দুই বিভাগের নম্বর মিলিয়ে তাঁর মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮.০৩৯। তাতেই নিশ্চিত হয় ব্রোঞ্জ।
এই বিভাগে সোনা জিতেছেন মিশরের সনডোস সনবোল। তাঁর মোট পয়েন্ট ১৮.৬৬০। রুপো পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার ভ্যালেরিয়া ফ্র্যানেরিস দুদামেল আলভারাদো। তাঁর সংগ্রহ ১৮.১৯৯ পয়েন্ট। চতুর্থ স্থানে শেষ করেন জর্জিয়ার গভান্তসা কারচাভা। তাঁর মোট পয়েন্ট ১৭.৭০০। অর্থাৎ, শেষ পর্বে নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটিয়েই পদক নিশ্চিত করেন মণিপুরের কিশোরী।
ফাইনালের আগে যোগ্যতা অর্জন পর্বেও নজর কেড়েছিলেন রাজকুমারী। ১৭.৯৮২ পয়েন্ট নিয়ে ১২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ আটে জায়গা করে নেন তিনি। গুনশুতে ৮.৮৭৬ এবং চাংছুয়ানে ৯.১০৬ পয়েন্ট পেয়েছিলেন। ফাইনালে সেই পারফরম্যান্সকেও ছাপিয়ে যান তিনি। প্রতিযোগিতার আগে নিজের লক্ষ্য নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ভারতীয় উশু খেলোয়াড়। যোগ্যতা অর্জনের পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমি পদক জিতব এবং বাড়ি ফিরব। আসলে যে কোনও পদক নয়, আমি সোনা জিততে চাই।’ শেষ পর্যন্ত সোনা না এলেও ব্রোঞ্জ জিতে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন তিনি।
রাজকুমারীর এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ ডাকারের যুব অলিম্পিকেই প্রথম বার পদক-প্রতিযোগিতা হিসাবে জায়গা পেয়েছে উশু। ফলে এই প্রতিযোগিতায় পদক জিতে ভারতীয় উশুর ইতিহাসে প্রথম নজির গড়লেন তিনি। এর আগে ২০২৬ সালের মার্চে চিনের তিয়ানজিনে বিশ্ব জুনিয়র উশু প্রতিযোগিতায় মেয়েদের যুব চাংছুয়ান বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন রাজকুমারী। ২০২৫ সালের সাব-জুনিয়র জাতীয় উশু প্রতিযোগিতাতেও সোনা জিতেছিলেন তিনি। পরপর আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য তাঁর প্রতিভা ও সম্ভাবনার পরিচয় দিচ্ছে। মণিপুরের উশু-ঐতিহ্যও এই সাফল্যের নেপথ্যে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারতের হয়ে ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে উশুতে পদকজয়ী নাওরেম রোশিবিনা দেবীও মণিপুরের। এ বার যুব অলিম্পিকে রাজকুমারীর ব্রোঞ্জ সেই রাজ্যের উশু-প্রতিভার ধারাকেই আরও উজ্জ্বল করল।
রাজকুমারীর পদক জয়ের আগে ভারতের হয়ে ডাকারে রুপো জিতেছিলেন খুশবু রাজকভাই দরজাদা। মহিলাদের ৬৩ কেজি জুডো বিভাগে তাঁর সাফল্য আসে। সাঁতারে মহিলাদের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন ধিনিধি দেশিংহু। তাঁদের সঙ্গে রাজকুমারীর পদক যোগ হওয়ায় যুব অলিম্পিকে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়াল একটি রুপো ও দু’টি ব্রোঞ্জ। তবে পদকসংখ্যার বাইরেও রাজকুমারীর সাফল্যের আলাদা মূল্য রয়েছে। যুব অলিম্পিকে উশুতে ভারতের প্রথম পদক এনে দিয়ে দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের সামনে নতুন দিশা দেখালেন তিনি।




