নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান নেতা বিবেক রামাস্বামী। ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের কাছে পরাজিত হলেন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে গত ২০ বছরে প্রথমবার ওহাইওর গভর্নর পদে ফিরল ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে রাজ্যটির ইতিহাসে প্রথম মহিলা গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন।
নির্বাচনের আগে রামাস্বামীকে ঘিরে যথেষ্ট প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তাঁর প্রচারে আর্থিক সহায়তাও ছিল বিপুল। রামাস্বামী এবং তাঁর সহযোগীরা প্রচারে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ করেন। এমনকী, ধনকুবের ইলন মাস্কও রিপাবলিকান প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ একটি রাজনৈতিক কমিটিকে অন্তত ৫ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন। কিন্তু বিপুল অর্থব্যয়ও শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল বদলাতে পারেনি।
অন্যদিকে, অ্যামি অ্যাক্টন প্রচারের মূল হাতিয়ার করেছিলেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা। সম্পত্তিকরের বোঝা, বিদ্যুতের বিল, স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী ভোটারদের কাছে তাঁর এই বার্তা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অ্যাক্টন একজন জনস্বাস্থ্য চিকিৎসক। কোভিড অতিমারির সময় ওহাইওর স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রামও প্রচারে উঠে এসেছিল। ছোটবেলায় একসময় তাঁকে গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হয়েছিল। এমনকী, একটি শীতকাল তাঁবুতেও কাটাতে হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে বিতর্কও কম হয়নি। অ্যাক্টনের বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা মাকে নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে রামাস্বামীর প্রচার শিবির। সেখানে অ্যাক্টনের মায়ের বক্তব্য তুলে ধরে তাঁকে আক্রমণ করা হয়। বিজ্ঞাপনটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়। ওহাইওর রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইন-সহ বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা করা হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজ্ঞাপনটির প্রশংসা করেছিলেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রামাস্বামীর পক্ষ নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ভোটের দিনও রামাস্বামী সম্পত্তিকর কমানো, বিদ্যুতের বিল হ্রাস, সাশ্রয়ী আবাসন এবং নিরাপদ রাস্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চেয়েছিলেন।
বর্তমান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আর নির্বাচনে লড়তে পারেননি। এবার তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নিতে চলেছেন অ্যামি অ্যাক্টন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এর আগে কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন না করেই এবার ওহাইওর প্রশাসনিক প্রধান হতে চলেছেন তিনি। তাঁর এই জয় শুধু রামাস্বামীর পরাজয় নয়, বরং ওহাইওর রাজনীতিতে দীর্ঘ দুই দশকের নির্বাচনী সমীকরণেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।




