নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল! ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের কার্যত বড় ধাক্কা দিল ডেমোক্র্যাটরা। শুধু সেনেটের নিয়ন্ত্রণই নয়, প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে এগিয়ে গেল বিরোধীরা। ফলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে তৈরি হল নতুন অঙ্ক। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যকলাপের উপর এবার বাড়তে চলেছে বিরোধীদের নজরদারি।
নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জনমতের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি, শুল্কনীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার গ্রাফও নিম্নমুখী।
সেনেটে বড় জয় ডেমোক্র্যাটদের
সেনেটের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। আইওয়ায় রিপাবলিকান অ্যাশলে হিনসনকে হারিয়েছেন জশ তুরেক। কানসাসে রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন অ্যাডাম হ্যামিলটন। টেক্সাসে কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে চমক দিয়েছেন জেমস টালারিকো। পাশাপাশি জর্জিয়া থেকে ফের সেনেটে নির্বাচিত হয়েছেন জন অসফ। নর্থ ক্যারোলিনাতেও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রাক্তন গভর্নর রয় কুপার।
নিউ হ্যাম্পশায়ার, কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, নিউ জার্সি, ইলিনয় এবং ম্যাসাচুসেটসের মতো একাধিক রাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের জয় অব্যাহত রয়েছে।
হাউসেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল রিপাবলিকানরা
প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের জয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। ৪৩৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ট্রাম্পের একাধিক বিল আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে বিরোধীরা। পাশাপাশি তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু করার সুযোগও তৈরি হবে।
অন্যদিকে, গভর্নর নির্বাচনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা গভর্নর হয়েছেন কেইশা ল্যান্স বটমস। ওহাইওতে ২০ বছর পর ডেমোক্র্যাটদের হয়ে গভর্নর পদে জয় পেয়েছেন অ্যামি অ্যাক্টন।
ট্রাম্পের পাল্টা বার্তা, সামনে রাজনৈতিক সংঘাত?
নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে 'Veto' লেখা লাল রিপাবলিকান টুপির ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। অর্থাৎ, ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন তিনি।
সব মিলিয়ে আমেরিকার রাজনীতিতে শুরু হতে চলেছে নতুন সংঘাতের অধ্যায়। একদিকে ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প। ফলে আগামী দু’বছর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক তদন্ত ঘিরে ওয়াশিংটনে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।




