নিউজ ডেস্ক : আমেরিকার রাজনৈতিক ময়দানে এবারের নির্বাচনের লড়াই ঘিরে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। দুই দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন প্রবাসী ভারতীয়রাও। ভোট গণনা শুরু হতেই সামনে আসতে থাকে একাধিক সমীকরণ। কোথাও সাফল্যের হাসি, কোথাও আবার কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের। সব মিলিয়ে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁদের ফলাফল তৈরি করেছে এক মিশ্র রাজনৈতিক ছবি।
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। বুধবার ভারতীয় সময় সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফল সামনে আসতে শুরু করে। এই ফলাফলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভারতীয় বংশোদ্ভুত নেতা সুহাস সুব্রামানিয়াম। ভার্জিনিয়ার দশম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডেভ বেকউইথকে পিছনে ফেলে প্রায় ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন সুব্রামানিয়াম। ফলে, মার্কিন কংগ্রেসে আরও একবার নিজের জায়গা পাকা করলেন তিনি।
অন্যদিকে, মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর অরুনা মিলারও নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছেন। ডেমোক্র্যাট গভর্নর ওয়েস মুরের সঙ্গে জুটি বেঁধে নির্বাচনের লড়েছিলেন তিনি। তাঁদের পুনর্নির্বাচনের ফলে মেরিল্যান্ডের প্রশাসনে ভারতীয় বংশোদ্ভুত প্রতিনিধিত্ব বজায় থাকলো।
ফ্লোরিডার ২২ তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টতেও নজর কেড়েছেন ডেমোক্র্যাট পার্টি পিয়া ডান্ডিয়া। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কেসি আসকারের বিরুদ্ধে এগিয়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক গণনায় ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে লড়াই তে সুবিধা জনক জায়গায় পৌঁছন পিয়া। তবে, গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে সর্তকতা রয়েছে।
অন্যদিকে, ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর পরিস্থিতি বেশ কঠিন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনের লড়লেও প্রাথমিক গণনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের থেকে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। প্রায় ৬৩ শতাংশ ভোট অ্যাক্টনের ঝুলিতে যাওয়ার বিপরীতে রামাস্বামী পেয়েছেন প্রায় ৩৪ শতাংশ। যদিও তখনও ভোট গণনা সম্পূর্ণ হয়নি।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ টি আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনের জন্য ভোট গ্রহণ হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক রাজ্যে গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের এই ফলাফল আমেরিকার রাজনীতিতে তাঁদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির পাশাপাশি দুই দলের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ভিন্ন ছবিও তুলে ধরেছে।




