স্পোর্টস ডেস্ক: প্রতিভা রয়েছে, সাফল্যও আসছে। কিন্তু মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভব সূর্যবংশীকে নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব দেওয়া কি ঠিক হচ্ছে? ভারতীয় ক্রিকেটের বিস্ময়বালককে নিয়ে এবার সতর্কবার্তা দিলেন স্বয়ং শচীন তেন্ডুলকর। তাঁর মতে, এত অল্প বয়সে বৈভবকে দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে লাল বলের ক্রিকেটে আরও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া উচিত। ধাপে ধাপে এগোনোই তরুণ ক্রিকেটারের ভবিষ্যতের জন্য ভালো।
সম্প্রতি ইস্ট জোনের হয়ে দলীপ ট্রফিতে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলেন বৈভব। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন করা হয় শচীনকে। মঙ্গলবার রেডিটে একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়েছিলেন মাস্টার ব্লাস্টার। সেখানে ১৫ বছর বয়সে বৈভবের হাতে নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজের মতামত জানান তিনি।
শচীন বলেন, ‘আমার মনে হয়, দলীপ ট্রফিতে ওকে সহ-অধিনায়ক করা এখনই একটু তাড়াহুড়ো হয়ে গিয়েছে। ওকে লাল বলের ক্রিকেটে আরও বেশি ম্যাচ খেলতে দিতে হবে। একবারে একটা করে ধাপ এগোনো উচিত।’
শচীনের এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট, বৈভবের প্রতিভা নিয়ে কোনও সংশয় নেই তাঁর। বরং অল্প বয়সে অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও দায়িত্বের চাপ যাতে তরুণ ক্রিকেটারের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেই দিকেই নজর দিতে বলছেন তিনি। বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে খেলার অভিজ্ঞতা যে একজন ব্যাটারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টিই তুলে ধরেছেন শচীন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে বৈভবের ক্রিকেটজীবন যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। আইপিএলে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সুযোগ পেয়েছেন। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সাফল্য পেলেও দীর্ঘ ফরম্যাটে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন শচীন।
দলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের সহ-অধিনায়ক হওয়ার পাশাপাশি সেমিফাইনালে অধিনায়কত্ব করার সুযোগও পেয়েছিলেন বৈভব। অধিনায়ক ঈশান কিষান চোটের কারণে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় সেই দায়িত্ব সামলাতে হয় তাঁকে। সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে ৮১ বলে ৯২ রান করেন বৈভব। দলীপ ট্রফির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অর্ধশতরানকারী হিসেবে নজির গড়েন তিনি।
পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ শতরানকারী হওয়ার সচিনের রেকর্ডও ভাঙার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে শচীনের মতে, এই ধরনের সাফল্যের পরও বৈভবের ক্রিকেটীয় বিকাশের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার আগে লাল বলের ক্রিকেটে আরও বেশি সময় কাটানো প্রয়োজন। ভবিষ্যতে দীর্ঘ কেরিয়ার গড়তে হলে প্রতিটি ধাপ বুঝে এগোনোই শ্রেয়।
বৈভবকে নিয়ে একই সঙ্গে সতর্ক ও আশাবাদী ভারতীয় ক্রিকেট মহল। তাঁর প্রতিভা এবং সম্ভাবনা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু সেই প্রতিভাকে দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখার জন্য সঠিক সময়ে সঠিক দায়িত্ব দেওয়াও জরুরি। শচীনের পরামর্শে সেই বার্তাই উঠে এল—এখনই নেতৃত্বের চাপ নয়, বরং ক্রিকেটের দীর্ঘ ফরম্যাটে আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজেকে পরিণত করে তোলাই বৈভবের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




