আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরকে পিছনে ফেলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা দখল করল ডেমোক্র্যাটরা। সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস—দুই জায়গাতেই বিরোধীদের এই সাফল্য আগামী দু’বছরের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে এই ফলাফলের প্রভাব শুধু আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের বাণিজ্য, শুল্ক, ভিসা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের দাপট
প্রাথমিক নির্বাচনী হিসাব অনুযায়ী, ১০০ আসনের সেনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫৩টি এবং রিপাবলিকানরা ৪২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ৪৩৫ আসনের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে রয়েছে ২২৪টি আসন, রিপাবলিকানদের ১৩৩টি। কয়েকটি আসনের ফলাফল তখনও বাকি ছিল। উল্লেখ্য, এর আগে সেনেটে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি আসন এবং হাউসে তাদের আসনসংখ্যা ছিল ২১৮।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের উপর নজরদারি বাড়াতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। বিভিন্ন বিষয়ে শুনানি, তদন্ত এবং সমন জারির ক্ষমতাও তাঁদের হাতে থাকবে। তবে প্রেসিডেন্টের হাতে ভেটো ক্ষমতা থাকায় সব সিদ্ধান্ত আটকানো সহজ হবে না।
ভারতের বাণিজ্য ও শুল্কনীতিতে কী প্রভাব?
ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক। আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের অন্যতম বড় বাজার। ফলে ওয়াশিংটনের শুল্কনীতিতে পরিবর্তন এলে ভারতীয় রপ্তানিতে তার প্রভাব পড়তে পারে।
গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কের কথা জানানো হয়। পরবর্তীতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের আরোপ করা একাধিক শুল্ক বাতিল হওয়ায় শুল্কের হার ১০ শতাংশে নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
H-1B ভিসা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয়দের জন্যও নির্বাচনের ফল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে H-1B ভিসাধারীদের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস থাকায় অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হতে পারে।
পাশাপাশি ভারত-আমেরিকা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অস্ত্র কেনাবেচা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও কংগ্রেসের ক্ষমতা বাড়লেও মার্কিন বিদেশনীতি সরাসরি তাদের হাতে চলে যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, আমেরিকার এই নির্বাচনী ফল ভারতের জন্য যেমন নতুন কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করছে, তেমনই বাণিজ্য ও অভিবাসন নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখতে হবে নয়াদিল্লিকে।




