নিউজ ডেস্ক: দলের কর্মীকেই ফোনে গালিগালাজ এবং মারধরের হুমকি! সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডিং ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমি বিধায়ক হওয়ার আগে গুন্ডা ছিলাম।” শুধু তাই নয়, দলের এক কর্মীকে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও ভাইরাল অডিওর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ কলের অডিও। সেখানে তিনজনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ, কথোপকথনের এক প্রান্তে রয়েছেন তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান এবং অন্য প্রান্তে দলের দুই কর্মী। অডিওতে বিধায়ককে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলতে এবং বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার কনভেনার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতেও শোনা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
কিন্তু কী কারণে এই উত্তেজনা? বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভান্ডারহাটির এক যুব বিজেপি কর্মী বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অন্য এক কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দলের অন্দরে বিবাদ তৈরি হয়। অভিযোগ, ওই বিষয় নিয়ে ফোনে কথা বলার সময়ই উত্তেজিত হয়ে পড়েন বিধায়ক। এরপরই দলীয় কর্মীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
এদিকে, ভাইরাল অডিওটি তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সমাজমাধ্যমের পেজ থেকেও প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার কনভেনার অসিত মজুমদার বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির অন্দরে কর্মী ও বিধায়কদের মধ্যে বিবাদ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। অডিওতে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ওই হোয়াটসঅ্যাপ কলে থাকা এক যুবক জানিয়েছেন, তিনি বিজেপির কর্মী। তাঁদের মধ্যে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়, যদিও কিছু সমস্যা হয়ে থাকলে তা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কে বা কারা অডিওটি ভাইরাল করেছেন, তা তিনি জানেন না। কাউকে অডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার অনুমতি দেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি। বরং সকলকে অডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তবে অডিওটির সত্যতা, সম্পূর্ণ কথোপকথনের প্রেক্ষাপট এবং বিধায়কের বক্তব্য সামনে না আসা পর্যন্ত বিতর্কের সব দিক স্পষ্ট নয়।




