নিউজ ডেস্ক: আলোর উৎসবের শুরু, ঘরে ঘরে সমৃদ্ধির কামনা। আর সেই উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ধনতেরাস। প্রতি বছর দীপাবলি বা কালীপুজোর আগে কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় এই বিশেষ উৎসব। এই দিনটি ঘিরে রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনি, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বহু বছরের প্রচলিত রীতি। কিন্তু শুধু সোনা-রুপো কেনাই কি ধনতেরাসের আসল উদ্দেশ্য? এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর তাৎপর্য।
ধনতেরাস শব্দটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে। ‘ধন’ অর্থ সম্পদ এবং ‘তেরাস’ অর্থ ত্রয়োদশী। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় এই তিথিতেই অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভগবান ধন্বন্তরি। তাঁকে আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসাশাস্ত্রের দেবতা হিসেবে পুজো করা হয়। তাই ধনতেরাস শুধু অর্থসম্পদের উৎসব নয়, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর কামনা করারও বিশেষ দিন।
এই দিনে মা লক্ষ্মী এবং ধনসম্পদের অধিপতি কুবেরের পুজো করার প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, তাঁদের আরাধনায় সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। সেই কারণেই সন্ধ্যায় বাড়ির দরজায় প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজোর আয়োজন করেন অনেকে।
ধনতেরাস বলতেই প্রথমে মনে আসে সোনা-রুপো কেনার কথা। এই দিনে নতুন সোনার গয়না, রুপোর কয়েন কিংবা বাসন কেনাকে শুভ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, ধনতেরাসে নতুন ধাতব সামগ্রী বাড়িতে আনলে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। তবে সোনা বা রুপো কেনা বাধ্যতামূলক নয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পিতল, তামা কিংবা অন্য বাসনও কেনেন অনেকে।
এই উৎসবের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল যমদীপ জ্বালানো। সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে প্রদীপ জ্বালিয়ে পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রীতি অকালমৃত্যুর ভয় দূর করার প্রতীক।
আসলে ধনতেরাসের মাহাত্ম্য শুধু কেনাকাটা বা সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য, পরিবারের সুখ, শান্তি এবং মঙ্গল কামনাই এই উৎসবের মূল বার্তা। তাই ধনতেরাস মানে শুধু ধন নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমৃদ্ধির প্রার্থনা।




