নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ফলাফল নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখনও বেশ ফুরফুরে মেজাজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দলের সম্ভাব্য খারাপ ফলের আবহেই তাঁর মন্তব্য, আমেরিকায় জনপ্রিয়তা কমে গেলে ইজরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন তিনি! ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে আলোচনা।
মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমেরিকার মানুষের মধ্যে তাঁর সমর্থন কমছে কি না, তা জানতে চাওয়া হলে রসিকতার সুরে জবাব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইজরায়েলে তাঁর জনপ্রিয়তা ৯৯ শতাংশ। আমেরিকার মানুষ যদি তাঁকে নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন, তাহলে তিনি ইজরায়েলে চলে যাবেন এবং সেখানকার প্রধানমন্ত্রী হবেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে হাস্যরসের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রাথমিক গণনার প্রবণতা রিপাবলিকানদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেনেটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা একাধিক আসনে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে ওহাইও, টেক্সাস এবং আরকানসাসের মতো রিপাবলিকান প্রভাবিত রাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার খবর সামনে এসেছে। প্রতিনিধি পরিষদের বেশ কয়েকটি আসনেও এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। নর্থ ক্যারোলিনায় একটি আসন জয়ের খবরও তাদের শিবিরে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, এই নির্বাচনে ব্যালটে তাঁর নাম ছিল না। তাঁর নাম থাকলে রিপাবলিকান পার্টি বিপুল জয় পেত বলেও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ দলের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প।
তবে শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফলাফলের উপর। যদি ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের উপর নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পাবে বিরোধীরা। বিভিন্ন বিষয়ে শুনানি, তদন্ত এবং সমন জারির মতো সাংবিধানিক ক্ষমতাও তাদের হাতে থাকবে।
যদিও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এবং সেনেটে ফিলিবাস্টারের মতো প্রক্রিয়া আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ফলে নির্বাচনের ফল শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আগামী দিনে ট্রাম্পের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কৌশলেও তার প্রভাব পড়তে পারে। আপাতত চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষায় মার্কিন রাজনৈতিক মহল।




