নিউজ ডেস্ক: চালের ব্যবসার আড়ালে চলছিল কোটি কোটি টাকার হাওয়ালা কারবার! সাইবার প্রতারণার টাকা কি ঘুরপথে ঢুকছিল কলকাতার এক ব্যবসায়ীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে? এই সন্দেহ ঘিরেই বুধবার সকাল থেকে তল্লাশিতে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কলকাতার কামালগাজি এলাকায় ব্যবসায়ী শ্যামল ব্যাপারীর অফিস ও বাড়িতে হানা দেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরে।
সূত্রের খবর, বুধবার ভোর প্রায় ৭টা নাগাদ এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। অসমের গুয়াহাটিতে দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরেই তদন্তে নামে ED। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক দাবি, শ্যামল ব্যাপারীর চালের ব্যবসাকে সামনে রেখে কোটি কোটি টাকার হাওয়ালা কারবার চালানো হচ্ছিল। অনলাইন লেনদেন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, গুয়াহাটিতে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ টাকা বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের মধ্য দিয়ে কলকাতায় পৌঁছত। এরপর হাওয়ালা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেই টাকা রাজ্যের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেওয়া হত। এই গোটা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছেন ED আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, প্রথমে লেকটাউনের একটি জায়গায় তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে পরবর্তী সময়ে মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে কামালগাজিতে শ্যামল ব্যাপারীর অফিস ও বাসভবন। তল্লাশিকে কেন্দ্র করে এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
তল্লাশির সময় মূলত ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, ব্যাঙ্কের নথি, আর্থিক লেনদেনের হিসাব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সন্দেহজনক একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ED-র নজরে রয়েছে। তদন্তে বেআইনি লেনদেনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
বিশেষ করে গুয়াহাটিতে হওয়া সাইবার প্রতারণার টাকা কীভাবে কলকাতার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘুরে হাওয়ালা চ্যানেলে পৌঁছেছিল, সেই আর্থিক লেনদেনের শৃঙ্খল খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, এর কয়েক সপ্তাহ আগেও কলকাতার একাধিক জায়গায় কথিত বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগে তল্লাশি চালিয়েছিল ED। পরপর এই ধরনের অভিযানে রাজ্যে আর্থিক অপরাধ ও বেআইনি অর্থ পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কারও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর।




