নিউজ ডেস্ক: চোরবাগান বিপর্যয় ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের সরব তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ঘটনার তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশের আইনি ব্যবস্থা সবকিছু নিয়েই একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কুণালের অভিযোগ, ১৯ জনের মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনার পরেও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টে ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারান ১৯ জন। আহত হন আরও অনেকে। ঘটনার পর থেকেই পুজো উদ্যোক্তাদের ভূমিকা, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পুলিশের দায়ের করা মামলার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ কুণাল ঘোষের। তাঁর দাবি, চোরবাগান বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিতে তাঁরা গিরিশ পার্ক থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের পাশাপাশি বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। কুণালের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের বক্তব্য জানাতে গেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এমনকী, তাঁর নামেও এফআইআর করা হয়েছে এবং আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
পুলিশের এই পদক্ষেপ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর বক্তব্য, এত বড় দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? কেন ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হচ্ছে? কুণালের অভিযোগ, পুজোর ছুটির দিনে একটি সরু গলিতে মানুষের যাতায়াতে অসুবিধা তৈরির যুক্তি দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে।
এখানেই শেষ নয়। বিজেপির রাস্তা অবরোধের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সঙ্গে নিজেদের ঘটনার তুলনাও টেনেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, ওই ঘটনায় পুলিশ প্রোটোকল দিলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য স্টেটমেন্টে নথিভুক্ত করা হয়নি। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে SIT ইতিমধ্যেই একাধিক পুলিশকর্মী ও আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার আগে মাইকে করা ঘোষণার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে পুলিশের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষের অভিযোগ, প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে প্রতিবাদীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করে দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা, দায় নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।




