নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস। প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী কোনও পুরুষ নির্বাচিত হলেন মার্কিন সেনেটের সদস্য হিসাবে। নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাস জয় ছিনিয়ে নিলেন রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জন সুনুনুর বিরুদ্ধে। ৪৬ বছর বয়সি পাপাসের এই জয় শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয়, আমেরিকার রাজনীতিতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এত দিন মার্কিন কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরে এলজিবিটিকিউ জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলেও প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসাবে সেনেটে নির্বাচিত হওয়ার নজির ছিল না।
মঙ্গলবার আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউ হ্যাম্পশায়ারের সেনেট আসনে জয়ী হন পাপাস। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রাক্তন সেনেটর জন সুনুনু। নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ইতিহাসের পাতায় নাম উঠে যায় ডেমোক্র্যাট নেতার। এই আসনটি এত দিন ডেমোক্র্যাট সেনেটর জিন শাহিনের দখলে ছিল। অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে লড়াই ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। পাপাসের জয়ের ফলে আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাতেই থাকল। আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।
রাজনীতিতে আসার আগে পরিবারের রেস্তরাঁর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পাপাস। ১৯১৭ সালে তাঁর পরিবারের ওই রেস্তরাঁর ব্যবসা শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। ২০১৯ সাল থেকে নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি হিসাবে মার্কিন কংগ্রেসে রয়েছেন পাপাস। এ বার সেনেট নির্বাচনে জিতে আরও বড় দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কখনও লুকোছাপা করেননি পাপাস। আমেরিকায় সমলিঙ্গ বিবাহ আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পর ভ্যান বেন্টলিকে বিয়ে করেন তিনি। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিভিন্ন সময়ে স্বামীকে পাশে পেয়েছেন পাপাস। জয়ের পর সমর্থকদের সামনে বক্তব্য রাখার সময় স্বামী ভ্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর এই জয়কে ঘিরে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন রাজনীতিতে অবশ্য এর আগে সমকামী ও এলজিবিটিকিউ জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু পাপাসের আগে প্রকাশ্যে সমকামী কোনও পুরুষ সেনেটর হিসাবে নির্বাচিত হননি। উল্লেখযোগ্য, সেনেটে এর আগে প্রকাশ্যে সমকামী মহিলা সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে পাপাসের সাফল্যকে বিশেষ করে পুরুষ সমকামীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসাবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে চলতি বছরেই ভারতের সংসদেও নজির তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের মনোনয়নে রাজ্যসভায় প্রবেশ করেছেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তাঁর সঙ্গী অরুন্ধতী কাটজুও দীর্ঘদিন ধরে এলজিবিটিকিউ অধিকারের পক্ষে সরব। ভারতের সংসদে প্রকাশ্যে সমকামী প্রতিনিধি হিসাবে মেনকার প্রবেশের ঘটনাও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এবার আমেরিকার সেনেটে পাপাসের জয় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যৌন সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গকে আরও এক বার সামনে নিয়ে এল।
রাজনৈতিক লড়াইয়ে পাপাসের জয় যেমন ডেমোক্র্যাটদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন না রেখে নির্বাচনী ময়দানে সাফল্য পাওয়ার দৃষ্টান্ত হিসাবেও এই ঘটনা আলোচনায় থাকবে।




